July 15, 2020, 5:42 am

বাসায় ফিরতে ভোগান্তি: রাজধানীতে ভাড়ায় চলছে দামি গাড়ি

বাসায় ফিরতে ভোগান্তি: রাজধানীতে ভাড়ায় চলছে দামি গাড়ি

Spread the love

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর শাহবাগ থেকে বাংলামোটর সিগন্যাল পেরিয়ে ওভারব্রিজ সংলগ্ন রাস্তার পাশে একটি নীল রঙের ঝকঝকে প্রাইভেটকার এসে থামল। এ সময় রাস্তার আশপাশে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজন দৌড়ে এগিয়ে আসল গাড়িটির কাছে। প্রাইভেটকারের সামনের আসনে চালক ছাড়া আর কেউ নেই। তিনি জানালা দিয়ে মাথা বের করে জিজ্ঞাসা করলেন, কোথায় যাবেন?

গাড়িটির সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কেউ ফার্মগেট কেউ মোহাম্মদপুর, কেউবা মিরপুরে যাবেন বলে জানান। এ সময় ভাড়া নিয়ে দর কষাকষি শুরু হয়। মিনিট খানেকের মধ্যে একে একে সবাই গাড়িতে উঠে বসেন। ফাঁকা রাস্তায় প্রাইভেটকারটি ছুটে চলে গন্তব্যে।

রোববার (৩১ মে) বিকেলের ঘটনা এটি। সরকারের নির্দেশে দুই মাসেরও বেশি সময় সাধারণ ছুটি শেষে আজ থেকে সরকারি-বেসরকারি অফিস চালু হয়েছে। করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের কারণে এতদিন রাস্তাঘাটে লোকজনের সংখ্যা কম দেখা গেলেও আজ রাস্তায় লোকজন ও যানবাহনের সংখ্যা ছিল অনেক বেশি।

সকালের দিকে কিছু সরকারি বিআরটিসি ও ব্যক্তি মালিকাধীন বাস চলাচল করলেও দুপুরের পর তা চোখে পড়েনি। এ অবস্থায় অফিস ছুটি শেষে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মানুষ গন্তব্যে ফেরার জন্য রাজধানীর বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডের সামনে অপেক্ষা করতে থাকেন। গণপরিবহন না থাকায় অফিস শেষে বাসায় ফিরতে চরম বিপাকে পড়েন তারা।

jagonews24

এ সময় কোনো একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল কিংবা প্রাইভেটকার খালি দেখলেই হাত উঁচিয়ে থামার জন্য অনুরোধ জানাতে থাকেন অপেক্ষমান ব্যক্তিরা। তাদের অনুরোধে কেউ না থেমে দ্রুত বেগে চলে যাচ্ছিল, কেউ আবার থেমে ভাড়ায় পোষালে যাত্রীদের গাড়িতে তুলে নিচ্ছিল।

সোমবার (১ জুন) থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে রাজধানীসহ সারাদেশে গণপরিবহন চালু হচ্ছে। মাস দুয়েক আগেও গণপরিবহনে ঠাসাঠাসি করে যাত্রী উঠানো হলেও বর্তমান করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে নির্দিষ্ট শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে গাড়িতে যাত্রী উঠানো হবে। এজন্য অবশ্য আগের তুলনায় বাসে ৬০ শতাংশ বেশি ভাড়া গুনতে হবে।

jagonews24

রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা মতিঝিলের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আজিজুল ইসলাম শাহবাগে বাসের অপেক্ষায় অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে না পেয়ে ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলে চেপে বাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন।

তিনি বলেন, গণপরিবহন না চললে এভাবে ভাড়ার গাড়িতে গিয়ে তাদের মতো স্বল্প আয়ের মানুষের পোষাবে না। দুই মাসেরও বেশি সময় অফিস বন্ধ থাকায় বেতন-ভাতাও পাননি। দুই মাস পর আজ অফিসে যোগদান করলেও সব সময় করোনাভাইরাস সংক্রমণের আতঙ্ক তাড়া করে বেড়াচ্ছে বলে জানান তিনি।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 jonotarbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com