May 30, 2020, 5:38 pm

টঙ্গীর বস্তিগুলোতে করোনা আতঙ্ক কাজ ও অর্থাভাবে দিনমুজুর দরিদ্র মানুষের পেটেও চলছে লক-ডাউন

টঙ্গীর বস্তিগুলোতে করোনা আতঙ্ক কাজ ও অর্থাভাবে দিনমুজুর দরিদ্র মানুষের পেটেও চলছে লক-ডাউন

Spread the love

মৃণাল চৌধুরী সৈকত, টঙ্গী :
মহামারী করোনা ভাইরাস আতঙ্কে দেশব্যাপী সরকারী বে-সরকারী ছুটি ঘোষনার পর থেকে কাজ ও খাদ্যের অভাবে টঙ্গীর বিভিন্ন বস্তি এলাকায় বসবাসরত দিন মুজুর দরিদ্র মানুষ গুলোর পেটে চলছে অনাকাঙ্খিত লকডাউন। গরীব ওইসব মানুষগুলো একদিকে করোনা আতঙ্ক আর এক দিকে নিধারুন ক্ষুধার যন্ত্রনা নিয়ে তাকিয়ে আছে স্থানীয় বিত্তবান, সমাজ সেবক এবং জনপ্রতিনিধিদের মুখের দিকে সাহায্য সহযোগীতার আশায়।
এদিকে বিশ্বের ন্যায় বাংলাদেশেও দিনদিন ছড়িয়ে পড়ছে এ মরণ ব্যাধি করোনা ভাইরাস। এরই অংশ হিসেবে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে গাজীপুর মহানগরীর ছোট-বড় প্রায় ২ শতাধিক বস্তি এলাকা। এর মধ্যে টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় ১১ এবং টঙ্গী পশ্চিম থানা এলাকায় ১৮টি ছোট বড় বস্তি রয়েছে। এসব বস্তিতে থাকা দিনমুজুর দরিদ্র মানুষের মাঝে সরকারী ভাবে এবং স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সচেতনতার বার্তা প্রতিনিয়ত পৌঁছালেও পৌছানো হয়নি হ্যান্ড সেনিটাইজার, হ্যান্ড গ্লাবস বা মার্কস। এসব দরিদ্র মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টি হলেও কাজ আর অর্থের অভাবে তারা কেউই মানতে পারছে না স্বাস্থ্য সুরক্ষার কোন প্রকার নিয়মনীতি। গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন ও মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে করোনাভাইরাস সচেতনতা বার্তা দিয়ে মাইকিং করা হলেও সচেতনতার ধারে কাছেও নেই এসব বস্তিবাসী। বস্তিগুলেঅতে বসবাসরত দরিদ্র মানুষগুলো কাজের অভাবে অর্থ যোগাতে না পেরে গত দুদিন অভুক্ত প্রায়। ছেলে মেয়ে স্ত্রী বা পরিবারে সদস্যদের নিয়ে খেয়ে না খেয়েই মানবেতর দিন যাপন করছে।
স্থানীয়রা বলছেন, বস্তির অ-স্বাস্থ্যকর পরিবেশ ও বহুলোক একত্রে বসবাস করেন। তাদের মধ্যে এই রোগ ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বেশী। আর তাই স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা দিনে কয়েকবার করে এসে তাদের বুঝিয়ে যাচ্ছেন ঠিকই কিন্তু কাজ ও অর্থাভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যদ্রব্য ক্রয় করতে না পেরে এসব মানবেতর জীবন যাপন করছে। এসব বস্তিবাসীদের বাঁচিয়ে রাখতে এবং তাদের সাহায্য সহযোগীতায় স্থানীয় বিত্তবান, সমাজ সেবক এবং জনপ্রতিনিধিদের এগিয়ে আসা জরুরী। অথচ কেউ এগিয়ে আসছে না ! জাতীয় সংসদ সদস্য, মেয়র, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশন কিংবা শিল্পপতিরা ঐক্যবদ্ধভাবে এসব বস্তিবাসী দরিদ্র দিনমুজুর মানুষদের সাহায্যার্থে খুব দ্রুত এগিয়ে আসবেন এমন প্রত্যাশা সকলের। বস্তিগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, দেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর খবর বস্তিগুলোতে পৌছানো হচ্ছে, সচেতনতা বৃদ্ধিতে যথেষ্ট প্রচার-প্রচারণার কার্যক্রম রয়েছে। কিন্তু নেই তাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা। বস্তির বাসিন্দাদের স্বাস্থ্যসেবায় আলাদা কোনো স্বাস্থ্যকেন্দ্র হয়নি। যে যেভাবে পারছে চলাফেরা করছে, শিশুরা অবাধে খেলাধুলা করছে। বাচ্চাদের ঘরের বাইরে বের হতে নিষেধ করা হচ্ছে না। অর্থের অভাবে যেখানে খাদ্য সামগ্রী ক্রয় করতে পারছে না সেখানে জীবাণুমুক্ত থাকার জন্য সাবান, হ্যান্ড সেনিটাইজার, হ্যান্ড গ্লাবস বা মার্কস ব্যবহার করবেন কি করে ?
টঙ্গীর কড়ইতলা বস্তির মাহামুদ বেলা নামে এক ব্যক্তি তার ফেইসবুক পেইজে লিখেছেন, “কড়ইতলা বস্তিতে ছিন্নমূল ৪০টি পরিবার খাদ্য সংকটে আছে, এলাকার বিত্তবান লোকদের এগিয়ে আসার আহবান জানাই” তিনি আরো লিখেছেন “করোনার কারণে অসহায় গরিব মানুষের পেটে লকডাউন” আসে নাই এমপি, আসে নাই মেয়র মহোদয়, আসে নাই এলাকার বড় কোন নেতা,রাজনীতি না করে-সত্যিকারের মানুষ হোন, ছিন্নমূল বস্তিবাসী মানুষের খবর নিন, তারা কেমন আছে, নিন্ম আয়ের মানুষের জন্য সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন ”।
জানা যায়, টঙ্গীর আমতলী, কেরানীর টেক, রুবেল সরকারের বস্তি, কো-অপারেটিভ ব্যাংক মাঠ বস্তি, রেলওয়ে কলোনী বস্তি, এরশাদনগর বস্তি, ভরান মাজার বস্তি, তুরাগ পাড়ে বাইদ্যা বহর বস্তি, চানকিরটেক বস্তি, নামাপাড়া বস্তি, কলাবাগান বস্তি, লাল মসজিদ বস্তি, জেরিন-জিন্নাত বস্তিসহ প্রায় প্রতিটি বস্তির একই চিত্র বিরাজ করছে দিন মুজুর দরিদ্র মানুষগুলোর জীবনে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একাধিক লোকজন জানান, আমাদের এলাকার এসব বস্তিতে একজন ব্যক্তিও যদি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয় তাহলে সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়বে পুরো বস্তি। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকবে বৃদ্ধ ও শিশুরা। বস্তির অধিকাংশ বাসিন্দাই গরিব ও অশিক্ষিতি। তাদের কেউ সিএনজি অটোরিকশা চালক, কেউ রিকশা চালক, কেউ বা সিকিউরিটি গার্ড, দিনমজুর বা পোশাক শ্রমিক।
ওইসব কর্মজীবি মানুষগুলো জানান, আমরা এখানে করোনা ভাইরাস থেকে বাঁচতে কিছুই ব্যবহার করি না। এখানকার ঘরগুলোতে একসঙ্গে আমরা অনেকই দিনযাপন করি। আমাদের কেউ আক্রান্ত হলে বাঁচার উপায় নেই। সরকারি বা বে-সরকারী ভাবে আমাদের কোন সুযোগ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে না, আমরা পাচ্ছি না। আমরা আমাদের পরিবারের সদস্যদের খাবার যোগাড় করবো না চিকিৎসা করবো ? খাবার যোগাড় করার মতো ব্যবস্থাওতো নেই বর্তমানে। একদিকে করোনা অন্যদিকে ঘর থেকে বের হলেই পুলিশ ধরে, কি করবো আমরা। না খেয়ে মা বাবা ছেলে মেয়ে বউ নিয়ে মরতে হবে। কেউতো আমাদের সাহায্য করছে না। লকডাউন নামের ওইযে ইংরেজী শব্দটা এখন আমাদের পেটে চলছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 jonotarbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com