শনিবার, ১৯ অক্টোবর ২০১৯, ০৮:৫৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
নিষ্ক্রিয় ২৮ রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন বাতিল চাই–মোমিন মেহেদী ইনতিজার শিশু বৃত্তি পরীক্ষার পুরস্কার বিতরণ গাজীপুর জেলার জোলারপাড় হতে ৭৭পিস ইয়াবাসহ দুই জন গ্রেফতার টঙ্গীতে মাদক ব্যবসায় বাধা দেয়ায় দুই যুবককে কুপিয়েছে মাদক ব্যবসায়ীরা গাজীপুরের দক্ষিণ সালনা এলাকা হতে শীর্ষ দস্যু চক্রের তিন জন গ্রেফতার নড়াইলে ৬ দফা দাবিতে ইউএনওর নিকট স্বারকলিপি প্রদান করলো পরিবার কল্যাণ সহকারী সমিতি লোহাগড়ায় আ,লীগের আসন্ন সম্মেলনকে কেন্দ্র করে কাউন্সিলর বঞ্চিতদের বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ নড়াইলে শিশুর লাশ উদ্ধার যুবলীগ নেতাকে অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ তাতীলীগ নেতার বিরুদ্ধে!! পানির গতিমুখ বন্ধ করায় ৩০বিঘা জমি অনাবাদি মাজবাড়ী খাঁরদিঘীতে অবৈধভাবে মাছ চাষ দুরচিন্তায় কৃষক \ আবেদনেও প্রতিকার নেই গাজীপুরের কাশিমপুর রওশন মার্কেট হতে ২৫ লিটার চোলাইমদসহ চার মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার গাজীপুরের শীর্ষ মলম/অজ্ঞান পার্টির চক্রের সক্রিয় চার জন গ্রেফতার বিএমএসএফ’র ৫০ শাখা কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ ঘোষণা সভাপতির দুর্নীতির প্রতিবাদে টঙ্গী প্রেসক্লাবের অফিস কক্ষে তালা ইভিএম ভোট গ্রহন গাবতলী রামেশ্বরপুর ইউপি উপ-নির্বাচনে শাহজাহান নির্বাচিত গাজীপুর জেলার উলুসারা হতে প্রায় ০১ গ্রাম হেরোইনসহ ০২(দুই) জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার গাজীপুরের দিঘীরচালা হতে ১০০ গ্রাম গাঁজাসহ ১ মাদক ডিলার গ্রেফতার রংপুরে ১২ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে পিআইও’র মামলা: বিএমএসএফ’র প্রতিবাদ নিহত দুই ক্রিকেটারের দেহ মর্গে ফেলে রাখায় হাসপাতাল ভাঙচুর অবশেষে রাস্তার ওপর থেকে সরানো হলো বিদ্যুতের খুঁটি
যে দেশে মালির বেতন ৬৩ হাজার; রানী-রাজার খবর নাই

যে দেশে মালির বেতন ৬৩ হাজার; রানী-রাজার খবর নাই

Spread the love

মোমিন মেহেদী : এমন একটা দেশে জন্ম নিয়েছি, যে দেশে শুরু থেকেই সমান্তরাল এগিয়েছে দুর্নীতি। যে কারণে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বলেছিলেন- ‘সবাই পায় সোনার খনি, আমি পেয়েছি চোরের খনি।’
একটা জরিপে দেখা গেছে- বাংলাদেশ থেকে যারাা হজ¦ করতে যায়, তাদের অধিকাংশই সাবেক সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী। তার অর্থ দাড়ালো এই যে, জীবনভর দুর্নীতি করে শেষ বয়সে সেই নীতিহীনতার মুক্তির জন্য হজ¦ব্রত পালন। যা ধর্মীয়ভাবে বয়কটকৃত। আবু হুরায়রা র. থেকে বর্ণিত হযরত মুহাম্মদ সা. বলেছেন- যারা জেনে অনাায় করবে, তাদের কোন ক্ষমা নেই।’ তবু বাংলাদেশের রাজনীতিক-প্রশাসনিক কর্তারা অন্যায়ের সাগওে হাবুডুবু খায়। যে কারণে একটি সিলিং ফ্যানের মূল্য এক লাখ এক হাজার টাকা হয়ে যায়। এইতো সেইদিনের কথা- বিটিসিএলের একটি প্রকল্পে এরকম ৪৫০টি ফ্যান কেনার জন্য তাই মোট ব্যয় ধরা হয়েছে পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার মার্কিন ডলার বা প্রায় চার কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এভাবে বিভিন্ন খাতে প্রায় ৮০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয় দেখানো হয়েছে ‘মর্ডানাইজেশন অব টেলিকমিউনিকেশন নেটওয়ার্ক ফর ডিজিটাল কানেকটিভিটি’ বা ‘ডিজিটাল সংযোগ স¤প্রসারণে টেলিযোগাযোগ অবকাঠামোর আধুনিকায়ন’ (এমওটিএন) প্রকল্পে। ২০১৫ সালের মার্চ থেকে প্রকল্পটি গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের চেয়ে অতিরিক্ত ব্যয়ে বিনা টেন্ডারে চীনের প্রতিষ্ঠান জেডটিইকে কাজ পাইয়ে দেওয়াই সংশ্লিষ্টদের মূল লক্ষ্য। তাই এ প্রকল্প গ্রহণের উদ্দেশ্যও প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। এরপরও অতিরিক্ত ব্যয় প্রায় ৮০০ কোটি টাকা যুক্ত রেখে একনেকে এর প্রস্তাব পাঠানো হয়। প্রভাবশালী মহলের তৎপরতার মুখে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ এবং প্রকল্পের তত্ত¡াবধানকারী বিটিসিএলের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এ ব্যাপারে এখন মুখ খুলতে চাইছেন না। ২০১৫ সালের মার্চে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি বিটিসিএল ডিজিটাল যোগাযোগ স¤প্রসারণের লক্ষ্যে এমওটিএন প্রকল্প নেয়। এরপর একই বছরের ২৯ মার্চ ঢাকার চীনা দূতাবাস থেকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে একটি চিঠি আসে। এতে প্রকল্পের জন্য চীনের ঋণ দেওয়ার কথা জানিয়ে চীনা কোম্পানি জেডটিইকে যোগ্য বিবেচনা করে কাজ দেওয়ার অনুরোধ করা হয়। জাপানি সহায়তায় টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ডেভেলপমেন্ট প্রকল্প (টিএনডিপি) থেকে অনিয়মের অভিযোগে জাপানি সাহায্য সংস্থা জাইকা ঋণ প্রত্যাহারের পর একই ধরনের নেটওয়ার্ক উন্নয়নকাজের জন্য এই এমওটিএন প্রকল্প নেয়। এখানেই কি শেষ! না, বরং- টিনডিপি প্রকল্পে লট-বি অংশে নেটওয়ার্ক উন্নয়নের জন্য মোট ব্যয় ছিল প্রায় ২৫০ কোটি টাকা। এমওটিএন প্রকল্পেও প্রায় একই ধরনের উন্নয়ন ও কারিগরি কাজের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদিও এতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ২৩১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় দুই হাজার ৪৮ কোটি টাকা। চীনা কোম্পানি জেডটিইর সঙ্গে বিটিসিএলের দরকষাকষি কমিটির আলোচনায় এবং ২০১৬ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বিটিসিএল-জেডটিই চুক্তিতে ২৩১ মিলিয়ন ডলার ব্যয় নির্ধারণ করা হয়। অথচ এর আগে অপর একটি চীনা কোম্পানি এ প্রকল্পের জন্য মোট ব্যয় ১৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বা প্রায় এক হাজার ১৬০ কোটি টাকা উল্লেখ করে একটি প্রস্তাব দেয়। ২০১৬ সালের ১২ মে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে পাঠানো একটি চিঠিতে চীনা কোম্পানির ওই ব্যয়ের হিসাব (১৪৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার) সংযুক্ত করে জেডটিইর সঙ্গে চুক্তির ক্ষেত্রে ব্যয়ের তারতম্যের দিকে লক্ষ্য রাখার নির্দেশনা দেওয়া হয়। যদিও পরে এ নির্দেশনা উপেক্ষা করে অতিরিক্ত প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয় দেখিয়ে জেডটিইর সঙ্গে চুক্তি করে বিটিসিএল। ৪৫০টি সিলিং ফ্যান বা বৈদ্যুতিক পাখা কেনার জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় চার কোটি ৫৫ লাখ টাকা। এর ফলে প্রতিটি পাখার দাম পড়ছে প্রায় এক লাখ এক হাজার টাকা! এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ‘জিপন’ যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে প্রতিটির মূল্য ১০১ মার্কিন ডলার দেখানো হয়েছে। অথচ আন্তর্জাতিক বাজারের একাধিক কোম্পানির খুচরা মূল্য থেকে দেখা যায়, এর মূল্য বর্তমান বাজারে ৪৫ থেকে ৫০ মার্কিন ডলার। এ ছাড়া এখনও বিটিসিএলে আগের একটি প্রকল্পের জন্য কেনা প্রায় এক লাখ জিপন পড়ে আছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। এ মজুদ বিবেচনায় নিলে মোট ব্যয় আরও অনেক কমে আসত। কিন্তু বাস্তবে তা করা হয়নি। এভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় দেখিয়ে প্রকল্প ব্যয় বাড়ানো হয়েছে ৮০০ কোটি টাকা।
এরপর পত্রিকার ফন পাতায় এক অনুজ লিখেছিলো- এই ফ্যান রোবোটিক ফ্যান। অন্য সাধারণ ফ্যানের সঙ্গে এটিকে তুলনা করা অজ্ঞতা। এই রোবোটিক ফ্যান আপনাকে শুধু ঠান্ডা করবে না। এটি দিয়ে আপনি শুধু ব্যক্তিগত কিছু কাজ ছাড়া সবকিছু করতে পারবেন! এটি চালাতে সম্ভবত সুইচ টিপতে হয় না। আপনাকে দেখলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে অন অফ হয়ে যাবে। সরকারি কাজ করতে গেলে অন অফ করা একটা ঝামেলা। তাই এসব বিবেচনায় রেখে এই ফ্যান কাস্টমাইজ করে বিশেষ প্রযুক্তিতে বানানো। তাই এর মূল্য এক লাখ এক হাজার টাকা হতেই পারে…। হতে পারে ফ্যান তৈরিতে যে ধাতু ব্যবহার করা হয়েছে তা আসলে ইউরেনিয়াম। ইউরেনিয়াম খুবই দামি মৌল। সবাই এর ব্যবহার করতে পারে না। আর দামি মৌল থেকে আসে দামি বাতাস! তাই ইউরেনিয়াম দ্বারা তৈরি সিলিং ফ্যান তৈরি করা হয়েছে। তাই এই ফ্যানের এত টাকা দাম। সিলিং ফ্যানগুলোতে হিডেন এ.সি আছে। যেটা কারো বাপের সাধ্য নেই ধরার। এটাই হল ম্যাজিক। ফ্যানের নিচে এসির আমেজ পাবেন অথচ সেটা দেখবেন না। ইনকাম ট্যাক্স অফিসাররাও ঘরে এসে বুঝতে পারবে না যে আপনি আসলে ফ্যানের বদলে ঘরে এসি পালছেন! এই ফ্যানগুলো আসলে হেলিকপ্টারের মাথা থেকে খুলে আনা হয়েছে। হেলিকপ্টারের ফ্যানের তো আর সাধারণ দাম হতে পারে না। এক লাখও কম হওয়ার কথা…। সাধারণ ফ্যানের মধ্যে যে কয়েল ব্যবহার করা হয়, তাতে ফ্যান চলে, কিন্তু মশা মরে না। এর ফলে চিকুনগুনিয়া নামক রোগ বিস্তার লাভ করেছে। তাই এসব ফ্যানের মধ্যে এক ধরনের কয়েল ব্যবহার করা হয়েছে যা ফ্যান চলতে সাহায্য করবে, আবার মশা মারার কয়েল হিসেবেও কাজ করবে। এই সুবিধা দিয়ে একটা ফ্যান তৈরি করতে তো লাখখানেক টাকা খরচ হওয়ার কথা। সে হিসেবে আমাদের হর্তাকর্তারা দামাদামি করে একটু কম দামেই নিয়েছে…
হয়তো প্রতিনিয়তই আামাদের আমলারা পুকুর চুরি করছেন। যখনই ধরা পড়ছেন, তখন নড়ে চড়ে বসছেন। সর্বশেষ রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গ্রিনসিটি প্রকল্পের বিভিন্ন ভবনের ২০ তলায় একটি বালিশ-এর দাম সাড়ে ৯ হাজার টাকা আর তা তুলতে ৭৬০ টাকা ব্যয়ের ঘটনা সবচেয়ে বেশি চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এ ঘটনাকে রূপকথার সঙ্গে তুলনা করেছেন। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিজেদের পক্ষেই সাফাই গেয়েছেন। ২০ তলায় একটি বালিশ উঠাতে ৭৬০ টাকা কেন দিতে হল। এ প্রশ্নের উত্তরে অবশ্য নির্লজ্জের মত পাবনা জেলার গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৗশলী মাসুদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেছেন, একেক ফ্লোরে একেক সময় হেঁটে হেঁটে বালিশ উঠাতে হয়েছে। উপরের ফ্লোরে একাধিকবার উঠতে হয়েছে। তাই এত ব্যয় হয়েছে। একটি বালিশ তুলতে কোনো ঠিকাদার ৭৬০ টাকা রেট দিলে ওই টেন্ডার বাতিল করে কেন দ্বিতীয় দফায় আহŸান করা হল না। এ প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে সিদ্ধান্তের কারণে এভাবে কাজ দেয়া হয়েছে। সব কিছুই উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমেই হয়েছে। গ্রিনসিটির বিভিন্ন ফ্ল্যাটে রাশিয়ান নাগরিকদের থাকার জন্য কেনাকাটার ঘটনা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, প্রতিটি বালিশ কিনতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ৯ হাজার ৯৫৭ টাকা। আর সেই বালিশ ফ্ল্যাটে উঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৩৮ টাকা থেকে শুরু করে ৭৬০ টাকা। একেকটি ইলেকট্রিক কেটলি ৫ হাজার ৩১৩ টাকায় কেনা হয়। ওই কেটলি ভবনে উঠানোর খরচ দেখানো হয়েছে ২ হাজার ৯৪৫ টাকা। একইভাবে প্রতিটি আয়রন কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে ৪ হাজার ১৫৪ টাকা। আর তা ভবনে উঠানোর খরচ দেখানো হয়েছে ২ হাজার ৯৪৫ টাকা। ৯৪ হাজার ২৫০ টাকা করে কেনা প্রতিটি রেফ্রিজারেটর উপরে উঠাতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ৫২১ টাকা। একেকটি ওয়াশিং মেশিন কেনা হয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার টাকায়। ফ্ল্যাটে উঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার ৪১৯ টাকা করে। এভাবে ফ্ল্যাট সাজাতে বিভিন্ন ধরনের পণ্য কেনা ও ভবনে তোলার কাজে বেশুমার খরচ দেখানো হয়েছে। তবে বাস্তবতা হলো- রূপপুর গ্রিনসিটি প্রকল্পের কেনাকাটায় যে অর্থ ব্যয় হয়েছে তা রূপকথার গল্পকেও হার মানিয়েছে। যারা এমন আয়োজন করছেন তাদের সবাইকে এক এক করে আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা উচিত। এটা করা না হলে অভিনব এ দুর্নীতির খোলা দরজা বন্ধ করা খুবই কঠিন হবে। এমন অদ্ভুত ঘটনা আগে শুনিনি। ঘটনা যদি সত্য হয় তাহলে তো খুবই বিপদের কথা। রূপকথার গল্পের মতো শোনায়। এমন অস্বাভাবিক ব্যয়ের ঘটনা রোধ করতে হলে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। নতুন প্রজন্মের রাজনীতিক হিসেবে আমি মনে করি এ ধরনের ঘটনা অনুসন্ধান হওয়া উচিত। স্বাভাবিক দরদামের চেয়ে বেশি দামে কেনাকাটা করা হলে তা অবশ্যই অস্বাভাবিক ও অনিয়মের মধ্যে পড়ে। তবে আন্তর্জাতিক কোনো ‘রেট’ এখানে প্রযোজ্য কিনা সেটা দেখতে হবে।
চোরের মার বড় গলার মত করে দুর্নীতিবাজদেরই একজন গণমাধ্যমকে বলেছেন, তিনটি ভবনে ১১০টি ফ্ল্যাটে ৩৩০ জন রাশিয়ান নাগরিক বাস করবেন। তারা ২০২৫ সাল পর্যন্ত এখানে থাকবেন। তাদের থাকার সুবিধার জন্য ২৫ কোটি টাকার কেনাকাটা করেছি। ১১০টি ফ্ল্যাট সাজানোর জন্য যা যা দরকার সব কেনা হয়ছে। আমাদের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে সে বিষয়ে আমরা মন্ত্রণালয়কে রিপোর্ট দেব। কেনাকাটা ও পণ্য ভবনে উঠানো সংক্রান্ত সব ডকুমেন্ট সরবরাহ করব। এ ক্ষেত্রে দুর্নীতি হওয়া সম্ভব নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, গোপনে কিছুই করা হয়নি। তিনি এও উল্লেখ করেন- হাজার হাজার বালিশ কেনা হয়েছে।
আমি যতদূর জেনেছি, এই প্রকল্পের যে মন্ত্রণালয়; সে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এ্যাড. শ ম রেজাউল করিম। আমি যে তোপখানা রোডের যে ভবেেন নিচতলায় দীর্ঘ ৬ বছর; সেই ভবনের ১৪ তলায় তিনি প্রায় ১৮ বছর। তবু তেমন কথা হয়নি কখনো; কারণ একটাই আমি এড়িয়ে যেতে চাই সকল দুর্নীতির কারিগর ও পৃষ্টপোষকদেরকে। এত বড় দুর্নীতি তিনি চাইলেই এড়িয়ে যেতে পারবেন না। যেখানে সকল ফাইল তাঁর হাত হয়ে যায়, সেখানে ২০ ও ১৬ তলা ভবনের ১১০টি ফ্ল্যাটে একটি বৈদ্যুতিক কেটলি নিচ থেকে উপরে তুলতেই খরচ হয়েছে প্রায় ৩ হাজার টাকা। একই রকম খরচ দেখানো হয়েছে জামা-কাপড় ইস্ত্রি করার কাজে ব্যবহৃত প্রতিটি ইলেকট্রিক আয়রন উপরে তোলার ক্ষেত্রেও। একেকটি ওয়াশিং মেশিন উঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৩০ হাজার টাকারও বেশি। এভাবে ওয়াশিং মেশিনসহ অন্তত ৫০টি পণ্য উঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ক্রয়মূল্যের প্রায় অর্ধেক। প্রায় ৮ হাজার টাকা করে কেনা প্রতিটি বৈদ্যুতিক চুলা ফ্ল্যাটে পৌঁছে দিতে খরচ দেখানো হয়েছে সাড়ে ৬ হাজার টাকার বেশি। ৩৮ হাজার ২৭৪ টাকা দরে কেনা মাইক্রোওয়েভ ওভেন ফ্ল্যাটে পৌঁছাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ৮৪০ টাকা করে। অস্বাভাবিক এ অর্থ খরচ শুধু ভবনে উঠানোই নয়, আসবাবপত্র কেনার ক্ষেত্রেও দেখানো হয়েছে। প্রতিটি বিছানার চাদর কেনা হয়েছে ৫ হাজার ৯৮৬ টাকা করে। এ হিসাবে ৩৩০টি চাদর কিনতে খরচ হয়েছে ১৯ লাখ ৭৫ হাজার ৩৮০ টাকা। কাপড় পরিষ্কারের জন্য ১১০টি ওয়াশিং মেশিনের প্রত্যেকটি কেনা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ১১২ টাকা করে। ১১০টি টেলিভিশনের প্রত্যেকটি কেনা হয়েছে ৮৬ হাজার ৯৬০ টাকায় এবং সেগুলো রাখার জন্য টেলিভিশন কেবিনেট কেনা হয়েছে ৫২ হাজার ৩৭৮ টাকা করে। একেকটি ড্রেসিং টেবিল কেনা ২১ হাজার ২১৫ টাকায়, আর উঠাতে খরচ ৮ হাজার ৯১০ টাকা করে দেখানো হয়েছে। এ ছাড়া রুম পরিষ্কার করার মেশিন কিনতে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১২ হাজার ১৮ টাকা, ভবনে উঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ৬ হাজার ৬৫০ টাকা। প্রতিটি চুলা কিনতে খরচ করেছে ৭ হাজার ৭৪৭ টাকা, ভবনে উঠাতে খরচ দেখিয়েছে ৬ হাজার ৬৫০ টাকা। ছয়টি চেয়ারসহ ডাইনিং টেবিলের একেকটি সেট কেনা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৬৭৪ টাকায়, ভবনে তুলতে লেগেছে ২১ হাজার ৩৭৫ টাকা করে। ৫৯ হাজার ৮৫৮ টাকা দরে ওয়ারড্রোব কিনে ভবনে উঠাতে খরচ দেখানো হয়েছে ১৭ হাজার ৪৯৯ টাকা করে। ৩৬ হাজার ৫৭ টাকা দরে ৩৩০টি ম্যাট্রেস ও তোশক কেনা হয়েছে মোট ১ কোটি ১৯ লাখ টাকায়, যার প্রতিটি ভবনে উঠাতে খরচ করা হয়েছে সাত হাজার ৭৫২ টাকা করে। প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য ৪৩ হাজার ৩৫৭ টাকা দরে ১১০টি খাট কিনতে খরচ হয়েছে ৪৭ লাখ ৫৯ হাজার ২৭০ টাকা। খাটগুলোর প্রত্যেকটি ফ্ল্যাটে নিতে খরচ দেখানো হয়েছে ১০ হাজার ৭৭৩ টাকা। একেকটি সোফা কেনা হয়েছে ৭৪ হাজার ৫০৯ টাকা, ভবনে উঠাতে খরচ হয়েছে ২৪ হাজার ২৪৪ টাকা করে। ১৪ হাজার ৫৬১ টাকা দরে কেনা সেন্টার টেবিলের প্রত্যেকটি ভবনে তুলতে লেগেছে ২ হাজার ৪৮৯ টাকা। অস্বাভাবিক দামে এসব আসবাবপত্র কেনার পর তা ভবনের বিভিন্ন ফ্ল্যাটে উঠানোর এ ঘটনা ঘটিয়েছেন গণপূর্ত অধিদফতরের স্থানীয় কর্মকর্তারা আর পৃষ্টপোষক কিন্তু মন্ত্রী থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট সকলেই। যারা এই প্রকল্পের গড়ি চাালকের বেতন নির্ধারণ করেছে ৭৩ হাজার আর মালির বেতন ধরেছে ৬৩ হাজার টাকা। তারা যতই বলুক দেশ উন্নত হচ্ছে, আমি বলবো- পঁচে যাচ্ছে-ধ্বংশ হয়ে যাচ্ছে। সর্বগ্রাসী দুর্নীতির কবলে আজ বিপন্ন মানবসভ্যতা। সর্বনাশা এই সামাজিক ব্যাধির মরণ ছোবলে বর্তমান সমাজ জর্জরিত। সর্বোচ্চ প্রশাসন থেকে শুরু করে দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজনীতি, শিক্ষানীতি, সংস্কৃতি, শিল্প-বাণিজ্যসহ সর্বত্রই চলছে দুর্নীতি। তাই বিশেষজ্ঞরা দুর্নীতিকে জাতীয় উন্নয়নের অন্যতম প্রধান অন্তরায় হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। আভিধানিক অর্থে দুর্নীতি হলো নীতিবিরুদ্ধ, কুনীতি, অসদাচরণ, অসৎ উপায় অবলম্বন, অসৎ উপায়ে অর্থ উপার্জন, নীতি-বিরুদ্ধ আচরণ ইত্যাদি। আর প্রতিরোধ অর্থ হচ্ছে-নিরোধ, নিবারণ, বাধাদান, প্রতিবন্ধকতা, আটক, ব্যাঘাত। আভিধানিক অর্থে শব্দটি অত্যন্ত ছোট হলেও এর অর্থ ব্যাপক। দুর্নীতিকে নির্দিষ্ট কোনো সংজ্ঞায় আবদ্ধ করা যায় না। বিজ্ঞজনরা দুর্নীতিকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন। দুর্নীতির ধরন প্রকৃতি বহুমুখী ও বৈচিত্র্যময়। তাই তা নির্দিষ্টকরণ জটিল কাজ। দুর্নীতি এমন এক ধরনের অপরাধ, যার সঙ্গে ক্ষমতার অপব্যবহার, সুযোগ-সুবিধার অপব্যবহার যুক্ত। সাধারণ কথায় দায়িত্বে অবহেলা, ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ উৎকোচ গ্রহণ বা মহল বিশেষের অশুভ স্বার্থ হাসিল করাকে দুর্নীতি বোঝায়। বাংলাদেশের সমাজজীবনে অনৈক্য, হিংসা, দলাদলি, কোন্দল, স্বার্থপরতা, অবিশ্বাস এবং চরম দুর্নীতি বিরাজ করছে। দুর্নীতি আজ রাজনীতি, প্রশাসন, অর্থনীতি, সামাজি, ধর্মীয় ও ব্যক্তি জীবনের সব ক্ষেত্রে বিরাজ করছে। এমনকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও তা থেকে বাদ যায়নি। দুর্নীতিমুক্ত সমাজ সবার কাম্য। আর তাই চাই জনক কন্যা শেখ হাসিনা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এগিয়ে আসুন নিরন্তর দুর্নীতির বিরুদ্ধে, প্রয়োজনে প্রকৃত নতুন প্রজন্ম থাকবে সাহসের সাথে এই যুদ্ধে…
– লেখক : চেয়ারম্যান, নতুনধারা বাংলাদেশ এনডিবি ও প্রতিষ্ঠাতা, জাতীয় কৃষকধারা

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 jonotarbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com