সোমবার, ১৯ অগাস্ট ২০১৯, ০৩:০৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
জার্মানি আ:লীগের নতুন সভাপতি সাবু, সা: সম্পাদক আব্বাস গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তা এলাকা হতে অজ্ঞান পার্টির ০৪(চার) জন গ্রেফতার গাজীপুর হতে মলম/অজ্ঞান পার্টির চক্রের ০২(দুই) জন সদস্য’ গ্রেফতার সাবেক তথ্যমন্ত্রী মিজানুর রহমান শেলী আর নেই এতিমের হকের চামড়ার মুনাফা কার পকেটে? প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় গাবতলীতে বখাটেদের রামদা কোপে পিতাকে আহত করায় গ্রেফতারের দাবীতে আ’লীগের মানববন্ধন গাবতলী কাগইল ইউনিয়নে দুস্থদের মাঝে ভিজিএফ চাল বিতরণ ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ এটিএম বুথে নিরাপত্তাকর্মী খুন ২৬টি মোটরসাইকেলসহ ছিনতাই হওয়া কাভার্ডভ্যান উদ্ধার পাটুরিয়া ঘাটে যানবাহনের দীর্ঘ সারি, ভোগান্তিতে যাত্রীরা কাশ্মীর ইস্যুতে সতর্ক করলেন র‌্যাব ডিজি ‘শিডিউল বিপর্যয়ের চক্রে’ ট্রেন বৃষ্টির সঙ্গে ট্রেনের বিলম্ব, সীমাহীন ভোগান্তি ঘরমুখোদের উত্তপ্ত কাশ্মীরে সেনাবাহিনীর গুলিতে নিহত ৬ বঙ্গমাতার ৮৯তম জন্মবার্ষিকী আজ দুই জাপানি নাগরিকের কোমরে মিলল ১২ কেজি স্বর্ণ রাজধানীতে ঈদ জামাতের সময়সূচি নিম্নচাপটি ভারতের ঝাড়খণ্ডে অবস্থান করছে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হচ্ছে আজ
এড়লের বিলে ৩ টি খাল খনন শুরু কৃষকের মাঝে আনন্দের বন্যা আগামী মৌসুমে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের স্বপ্ন

এড়লের বিলে ৩ টি খাল খনন শুরু কৃষকের মাঝে আনন্দের বন্যা আগামী মৌসুমে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষের স্বপ্ন

Spread the love

মির্জা বদরুজ্জামান টুনু যশোর বুরে‌্যা
যশোর জেলার মধ্যে সবচেয়ে বৃহত্তর বিল হিসেবে পরিচিত এড়লের বিল। সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নে বিলটি অবস্থিাত হলেও এই বিলে দেয়াড়া, ফুলসারা ও পাশাপোল ইউনিয়নের হাজার হাজার কৃষক ইরি ও বোরো চাষ করে থাকে। বর্তমানে বিলের ৩ টি খাল দীর্ঘদিন খনন অভাবে ভরাট হয়ে যাওয়ায় বোরো আবাদ জলাবদ্ধতার কারনে বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমান সরকার এড়লের বিল ও পাশ দিয়ে বয়ে চলা বর্ধনার খাল খনন ইতিমধ্যে শুরু করেছে। কৃষকদের দাবি, আর যাতে কোন প্রভাবশালী মহল খালে পাটা দিয়ে মাছ চাষ করতে না পারে। স্থাানীয়রা জানান, যশোর জেলার বড় বিল এড়লের বিলের সাথে শাখা রয়েছে বর্ধনার বিল, ছোট খাল ও খইতলার খালটি ।বিলটি মুলতঃ উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নের দোগাছিয়া গ্রাম ঘেঁষে অবস্থিাত হলেও এই বিলে ধান চাষ করে থাকেন চুড়ামনকাটি, ফুলসরা, দেয়াড়া ও পাশাপোল ইউনিয়নের কয়েক হাজার কৃষক। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শুধুমাত্র এই বিলে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে কৃষকরা ইরি ও বোরো ধান চাষ করে থাকে। কিন্তু ইরি চাষ হলেও বোরো চাষীদের প্রধান অন্তরায় ছিল বিলের তিনটি খাল। দীর্ঘদিন যাবত এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থে বিলের খাল ৩ টিতে পাটা দিয়ে বর্ষা মওসুমে পানি আটেিকয় মাছ ধরতে শুরু করে। এ বিলের আমন চাষকারী কৃষকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পাটা দিয়ে মাছ ধরার কারনে বিলের খাল ৩ টি ভরাট হয়ে পড়ে। ধীরে ধীরে বিলে দেখা দেয় ব্যাপক জলাবদ্ধতা। বিলের উপরাংশে ধান চাষ করলেও বর্ষা মওসুমে পানি নিষ্কশনের ব্যবস্থাা থাকায় তলিয়ে যায়। কয়েক বছর ধরে এই বিলে বোরো ধান চাষ একবারেই বন্ধ হয়ে পড়ে। ধান রোপন করলেও জলবদ্ধতার কারনে তাদের ধান কাটতে বিলে যেতে পারে না। বিলের তিনটি খাল খনন এলাকার কৃষদের প্রানের দাবি ছিল। বিষয়টি বিলের কৃষকরা স্থাানীয় জনপ্রতিনিধিসহ কতৃপক্ষকে জানিয়েও কোন ফল না পেয়ে তারা এ বিলে বোরো চাষের আশা ছেড়ে দেয়। এলাকার কৃষকরা জানান, বর্তমান সরকার এ বছরের জানুয়ারি থেকে তাদের প্রানের দাবি খাল ৩ টি খনন কাজ শুরু করেছে। সরেজমিন এড়লের বিলে গিয়ে দেখা গেছে পুরোদমে চলছে খাল খননের কাজ। এতে এ বিলে বোরো চাষীদের মাঝে দেখা দিয়েছে আনন্দের বন্যা। তারা জানান, দীর্ঘদিন পর আবারো এখানে তারা বোরো চাষ করতে পারবেন। এ বিলের সবচেয়ে বেশি জমির মালিক দোগাছিয়াা গ্রামের কালু বিশ্বাস বলেন, খাল ৩ টি খনন হলে এই বিল থেকে বছরে হাজার হাজার মন ধান চাষ করতে পারবে কৃষক। তিনি আরো বলেন, খাল তিনটি খনন করে যদি বুকভরা বাওড়ের সাথে সংযোগ করে দেয় এবং প্রভাবশালীরা পাটা দিয়ে মাছ চাষ না করে তাহলে এখানকার কৃষকদের অভাব অনেকটা ঘুঁচবে ধান চাষের মাধ্যমে। পাশাপোল ইউনিয়নের রানীয়ালী গ্রামের কৃষক কার্ত্তিক জানান, বর্তমান সরকার বিলের ৩টি খাল খনন করে দেওয়ায় এলাকার কৃষক পরিবার জুড়ে আবারো দেখা দিয়েছে আনন্দের বন্যা। তিনি বলেন, খাল খননের পর এলাকার কিছু প্রভাবশালী মহল যাতে বিলে পাটা দিয়ে মাছ চাষ করতে না পারে সেজন্য প্রশাসন কে কঠোর হওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। কয়েকজন কৃষক জানান, যশোর সদর আসনের প্রয়াত সংসদ সদস্য যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলী রেজা রাজু বর্ষা মওসুম আসলেই বিলের পাটা উচ্ছেদে কঠোর ভুমিকা রাখতেন। তবে তিনি বার বার আশ্বাস দিয়েও খাল তিনটি খনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে পারেননি। কৃষকদের অভিযোগ ছিল, বিগত দিনে বিলে পাটা দিয়ে মাছ চাষ করায় তাদের রোপনকৃত বিঘার পর বিঘা আমন শুধুমাত্র মাছ চাষের জন্য নষ্ট হতো। বিলে জলবদ্ধতা ও পাটা দিয়ে মাছ চাষ করা এখনকার কৃষকদের নিকট অনেকটা মরার উপর খাড়ার ঘায়ের মত ছিল। কিন্তু এ বিলে আবারো হেক্টরের পর হেক্টর বোরো চাষ আগামী মওসুম থেকে করতে পারবে বলে কৃষকরা জানান। চুড়ামনকাটি ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান বলেন, এড়লের বিলের জলবদ্ধতা কৃষকদের দীর্ঘদিনের সমস্যা ছিল। খাল খনন শুরু হওয়ায় তাদের সমস্যা একেবারেই শেষ হবে। তিনি বলেন, এই বিলে প্রায় ৪ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো চাষ হয়ে থাকে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 jonotarbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com