শুক্রবার, ২৪ মে ২০১৯, ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম
আবারো পতনের ধারায় পুঁজিবাজার বাংলাদেশ ব্যাংকের সার্কুলার জারি বিনিয়োগের শর্ত শিথিল পুঁজিবাজারে ব্যাংকের রপ্তানি বাড়ছে শুকনো খাবারের জমে উঠেছে অনলাইন কেনাকাটা বাংলাদেশে তৈরি হবে মিতসুবিশি গাড়ি যে দেশে মালির বেতন ৬৩ হাজার; রানী-রাজার খবর নাই বেপরোয়া রোহিঙ্গা ইঞ্জিন ও পাওয়ার কার সঙ্কট ঈদে রেলযাত্রায় বিড়ম্বনা বাড়াতে পারে যানবাহনের মেয়াদোত্তীর্ণ সিলিন্ডার রাজপথে বাড়াচ্ছে প্রাণহানির ঝুঁকি কৃষক কাঁদছে, পুড়ছে ধান! টিকেট পেতে ভোগান্তি ওয়াহাব-আমির-আসিফ পাকিস্তান বিশ্বকাপ দলে পাকিস্তানকে হারাল ইংল্যান্ড ব্রাজিলে মদের দোকানে বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত ১১ চলে গেলেন কৌতুক অভিনেতা স্যামি শোর তাজিকিস্তানে কারাগারে দাঙ্গায় নিহত ৩২ খোলামেলা আলোচনায় মোনালিসা এবার মিলার বিরুদ্ধে মানহানীর মামলা নশিপুর ইউনিয়ন পরিষদে উন্মুক্ত বাজেট ঘোষণা
৮ ডিসেম্বর লোহাগড়া হানাদার মুক্ত দিবস

৮ ডিসেম্বর লোহাগড়া হানাদার মুক্ত দিবস

Spread the love
ইকবাল হাসান,নড়াইল : ৮ ডিসেম্বর লোহাগড়া থানা হানাদার মুক্ত দিবস । ১৯৭১ সালের এ দিনে ৮ নং সেক্টরের অধীনে লোহাগড়ার মুক্তিযোদ্ধারা সম্মুখ যুদ্ধের মাধ্যমে লোহাগড়া থানাকে পাক হানাদার মুক্ত করে উড়িয়েছিলেন বিজয়ের লাল-সবুজ পতাকা। কিন্তু, অবিশ্বাস্য হলেও সত্য যে, মহান স্বাধীনতার পর আজও পর্যন্ত লোহাগড়ায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে নির্মিত হয় নাই কোন স্মৃতি স্তম্ভ। মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজড়িত লোহাগড়া আজও অরক্ষিত ও অবহেলিত। 
                ইতিহাস স্বাক্ষ্য দেয় যে, মুক্তিযুদ্ধে লোহাগড়া ছিল ৮ নম্বর সেক্টরের অধীন। মধ্য নভেম্বরের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধারা সমগ্র উত্তর অঞ্চল শত্রæমুক্ত করে। এর পর মুক্তিযোদ্ধারা দক্ষিণাঞ্চলের প্রবেশ দ্বার ল²ীপাশায় অবস্থিত থানা আক্রমনের চূড়ান্ত পরিকল্পনা গ্রহন করেন। ৮ ডিসেম্বর ফজরের আযানের পর ভোর ৫ টার দিকে তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ ইউনুস আলী, থানা মুজিব বাহিনীর প্রধান সাবেক সংসদ সদস্য শরীফ খসরুজ্জামান, আবুল হোসেন খোকন, কবির হোসেনের নেতৃত্বে প্রায় দু’শতাধিক মুক্তিযোদ্ধা বিপুল পরিমান অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে গেরিলা কায়দায় পশ্চিম দিক দিয়ে থানা আক্রমন করেন। মুক্তিযোদ্ধাদের পরিকল্পিত আক্রমনে হতচকিয়ে পড়ে পাক বাহিনীর রেঞ্জার সদস্যরা। এ সময় থানায় অবস্থানরত রেঞ্জার বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্র গোলা বারুদ ফেলে থানার পূর্ব দিক দিয়ে পালিয়ে যায়। শুরু হয় মুক্তিযোদ্ধা ও পাক বাহিনীর মধ্যে যুদ্ধ। ৫ ঘন্টা ব্যাপী এ যুদ্ধ চলাকালে থানা অভ্যন্তরে সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন কোলা গ্রামের হাবিবুর রহমান ও যশোর সদর উপজেলার জঙ্গল-বাঁধাল গ্রামের মোস্তফা কামাল। প্রসঙ্গতঃ উলে¬খ্য যে, শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমানকে লোহাগড়া  থানা চত্বরে কবর দেওয়া হয় আর মোস্তফা কামালকে ইতনা স্কুল চত্বরে কবর দেওয়া হয়। ১৯৯০ সালে তৎকালীন থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম সহ সূধী মহলের সহযোগিতায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমানের কবরটি টাইলস্ দিয়ে বাঁধানো হয়। শহীদ মুক্তিযোদ্ধা মোস্তফা কামালের কবরটি ইতনা স্কুল চত্বরে রয়েছে।
               থানা আক্রমনের সময় মুক্তিযোদ্ধারা গুলি করে কুখ্যাত রাজাকার ও পুলিশ সদস্য খালেক ও নড়াইলের আশরাফ রাজাকার সহ প্রায় ২০ জন মানুষকে হত্যা করে। মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে গ্রেফতার হয় ১০ জন পুলিশ সহ ২২ জন রাজাকার। মুক্তিযোদ্ধারা বিপুল সংখ্যক অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করে নিজেদের আয়ত্বে আনেন। সকাল ৯ টার দিকে বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ ইউনুস আলী থানায় স্বাধীনতার পতাকা উড়িয়ে দেন। থানা হানাদার মুক্ত হওয়ার খবরে উল¬¬সিত মানুষজন স্বতস্ফুর্ত ভাবে আনন্দ মিছিল করে রাস্তায় নেমে আসে। এর পর ৮ ডিসেম্বর সারা দিনই লোহাগড়া থানার বিভিন্ন এলাকায় জনতা বিজয় মিছিল করে। বীর মুক্তিযোদ্ধা  সৈয়দ শামসুল আলম কচি বলেন, মুক্তিযুদ্ধে লোহাগড়ায় ১১ জন মুক্তিযোদ্ধা সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। তাঁদের স্মরণে এখনও পর্যন্ত এখানে নির্মিত হয় নাই কোন সৌধ্য বা স্মৃতিস্তম্ভ। তিনি লোহাগড়ায় শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে একটি  স্মৃতিস্তম্ভ নির্মানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহায্য ও সহযোগিতা কামনা করেছেন। লোহাগড়া উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ এর সহকারী কমান্ডার(দপ্তর) শেখ হান্নান বলেন, লোহাগড়া থানা মুক্ত দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে মাল্যদান, পতাকা উত্তোলন, র‌্যালি, আলোচনাসভা, দোয়া মাহফিল,শহীদদের কবর জিয়ারত এর আয়োজন করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 jonotarbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com