শুক্রবার, ১৮ জানুয়ারী ২০১৯, ১২:৫০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরনাম
তেরখাদা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থীদের গনসংযোগ সড়ক দুর্ঘটনায় আহত স্কুল ছাত্রের চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান কচুয়ায় ভূয়া মাজার তৈরী করে প্রতারনার ফাঁদ \ এলাকায় তোলপাড় দৈনিক সমকালের টঙ্গী প্রতিনিধির মা আর নেই গাজীপুরে বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক বিক্ষোভ পুলিশের টিয়ারসেল নিক্ষেপ মাটি ভর্তি ট্রাকচাপায় চিকিৎসকের মৃত্যু ভোটে বিএনপির কেন ভরাডুবি, ব্যাখ্যা করলেন জয় গাজায় ইসরায়েলি সেনাদের গুলিতে ফিলিস্তিনি নিহত ভারত ছাড়লেন তনুশ্রী দরিদ্র ও প্রতিবন্ধী মানুষের মধ্যে লিয়েন’র শীতের কম্বল ও খাবার বিতরণ কাসাভা চাষ পতিত জমিতে মুনাফার খোঁজ গাজীপুরে মালিক পক্ষের ছুটি ঘোষনা গার্মেন্টস শ্রমিকদেরবিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ ও বিজিবি মোতায়েন কচুয়ায় নৌকায় ভোট চাওয়ায় হামলা \ স্ত্রী, শাশুড়ী ও শ্যালকসহ আহত ৫ কচুয়ার উজানী মাদ্রাসার দু’দিন ব্যাপি বার্ষিক মাহফিল বৃহস্পতি ও শুক্রবার ঝিনাইগাতীতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আওয়ামীলীগের সম্ভাব্য প্রার্থী আজাদের মতবিনিময় সভা হোমনায় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন অবহিতকরণ ও পরিকল্পনা সভা গত বছর মানবাধিকার পরিস্থিতি ছিল চরম উদ্বেগজনক সুবিধা বঞ্চিত মানুষের সুবিধা নিশ্চিতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয়: প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য্য হোমনায় আন্তঃস্কুল ও মাদ্রাসার শীতকালীন ক্রীড়া প্রতিযোগীতার পুরস্কার বিতরণ কচুয়ায় প্রবাসীর বাড়িতে ডাকাতি \ স্বর্নালঙ্কার লুটের অভিযোগ
রূপসায় কৃষককে লোমহর্ষক হত্যার ঘটনায় আ’লীগ নেতা লিটুসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

রূপসায় কৃষককে লোমহর্ষক হত্যার ঘটনায় আ’লীগ নেতা লিটুসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা

গতকাল আহত সাদ্দামের ছেলে মো. অসীম শেখ বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

খুলনা ব্যুরো : রূপসায় কৃষক সাদ্দাম হোসেনের (৬৫) দু’হাতের কব্জি কেটে হাত বিচ্ছিন্ন ও দু’পায়ের রগ কর্তন ঘটনায় জাবুসা গ্রামের মৃত আলতাফ হোসেনের ছেলে ও উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ প্রচার সম্পাদক মো. লিটু শেখ (৫০) সহ ৯ জনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। গতকাল আহত সাদ্দামের ছেলে মো. অসীম শেখ বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং ৭, তাং ০৭/০১/১৯। এজাহার ভুক্ত অন্যান্য আসামীরা হলেন, একই গ্রামের ইশারাত ফকিরের ছেলে মো. রাসেল ফকির (৩৫), মো. রাজু ফকির (৩৮), মো. লিয়াকত ফকিরের ছেলে মো. শাকিল ফকির (২৫), আকমল ফকিরের ছেলে দূর্যোগ ফকির (১৯), মৃত আরশাদ ফকিরের ছেলে মো. নজু ফকির (৫০), হাশেম ফকিরের ছেলে তামীম ফকির (২২), হাফিজার মোল্লার ছেলে মো. নাদিম মোল্লা (২৫) ও লোকমান ফকিরের ছেলে মো. কামাল ফকির (৫০)। মামলায় অজ্ঞাত আরো ৩/৪ জন জড়িত বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় নজু ফকির ছাড়া আর কাউকে আটক করতে পারেনি পুলিশ।


মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেছেন, ঘটনার দিন ফজরের নামাজ আদায় করার পর সকাল ৭টার দিকে প্রতিদিনের মত আমার আব্বা সাদ্দাম হোসেন রূপসা ব্রীজের নিচে তোফাজ্জেলের চায়ের দোকানে চা পান করতে যায়। দোকানে যাওয়ার পূর্ব মুহুর্তে রূপসা ব্রীজের নিচে পৌঁছালে আসামীরা পূর্ব পরিকল্পনা মোতাবেক আগে থেকে চাইনিজ কুড়াল, চাপাতি, কুড়াল, আগ্নেয়াস্ত্র, ছুরিসহ তিনটি মোটরসাইকেল ও একটি ভ্যান যোগে ব্রীজের নিচে পৌঁছে পিলারের আড়ালে অবস্থান করতে থাকে। আমার পিতা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আসামীরা পিলারের আড়াল থেকে বের হয়ে ধীরে ধীরে চারদিক থেকে তাকে ঘিরে ফেলতে থাকে। আসামীদের উপস্থিতিতে আমার আব্বার সন্দেহ হলে তিনি আমাদের বাড়িতে ফোন দিতে গেলে ১নং আসামী লিটু শেখ এর হুকুমে ২ থেকে ৯ নং আসামী আতর্কিত ভাবে আমার আব্বাকে ঝাপটে ধরে। আসামী কামাল ও নজু ফকির আমার আব্বার দুই হাত ধরে মাটিতে ফেলে চেপে ধরে। আসামী রাসেল আমার আব্বার পিঠের উপর উঠে গলা চেপে ধরে। এসময় আসামী তামিম চাপাতি দিয়ে আমার আব্বার ডান হাতের কবজির উপর হতে এবং আসামী শাকিল চাপাতি দিয়ে বাম কবজির উপর হতে কেটে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। আসামী নাদিম ছুরি দিয়ে বাম পায়ের গোড়ালির উপর ও আসামী কামাল ফকির চাইনিজ কুড়াল দিয়ে ডান পায়ের গোড়ালির উপর কুপিয়ে শিরা কেটে পা বিচ্ছিন্ন করার চেষ্টা করে। ঘটনার সময় লোক মারফত খবর পেয়ে আমার মা ছায়রা বেগম ও আমি ঘটনাস্থলে যেতে গেলে নজু ফকির ও কামাল ফকির ধারালো ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে আমাদের হত্যার উদ্দেশে ধাওয়া করে। আমাদের ডাক চিৎকারে লোকজন জড়ো হতে থাকলে আসামীরা আমার আব্বার কেটে ফেলা হাত দু’টি নদীর পাড়ে ফেলে মোটরসাইকেল ও ভ্যানযোগে গ্রামের দিকে চলে যায়। প্রসঙ্গত, জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ৭ জানুয়ারী সকালে সন্ত্রাসীরা জাবুসা গ্রামের সাদ্দাম হোসেনকে কুপিয়ে দু’হাতের কবজি থেকে হাত বিচ্ছিন্ন এবং দু’পায়ের রগ কর্তন করে। আহত সাদ্দাম বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার অবস্থা এখনো আশংকাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। সাদ্দাম হোসেনের বড় ছেলে নাসিম বলেন, এর আগে জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আসামীদের সাথে আমাদের দীর্ঘ দিনের বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জের ধরে ২০১২ সালের ৩ আগস্ট সন্ত্রাসীরা আমার আব্বাসহ পরিবারের ৭জনকে কুপিয়ে জখম করে। এ ঘটনায় নজু ফকিরসহ ৭ জনকে আসামী করে একটি মামলা দায়ের হয়। যা এখনো আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া এর আগে এদের বিরুদ্ধে সাদ্দাম হোসেন আদালতে ১০৭ ধারায়ও একটি মামলা দায়ের করেন। এব্যাপারে রূপসা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় আহত সাদ্দাম হোসেনের ছেলে অসীম বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেছে। বাকী আসামীদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 jonotarbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com