বৃহস্পতিবার, ২১ মার্চ ২০১৯, ০৩:১১ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরনাম
বগুড়ার গাবতলী কলাকোপা আতপজান মেমোরিয়াল হাইস্কুলের স্টুডেন্ট কেবিনেট নির্বাচিতদের পরিচিতি ও সংবর্ধনা প্রদান ভোট থেকে বিরত থাকুন…জেলা যুবদলের সভাপতি সিপার গাবতলী থানা ও পৌর যুবদল ছাত্রদলের যৌথ মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত টঙ্গীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্ম বার্ষিকী উদযাপন জনগণেরতোপেরমুখে মেয়র গাজীপুরসিটিতেবিনা নোটিশে উচ্ছেদ অভিযানবন্ধরাখার দাবী টঙ্গীতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৯৯তম জন্ম বার্ষিকী উদযাপন দুর্নীতির ঋতু বদলাক ম্যান ইউকে বিদায় করে শেষ চারে উলভারহ্যাম্পটন চতুর্থ পর্বের আগে তিনদিনের বিরতি প্রিমিয়ার লিগে খলনায়ক ব্রেনটনকে আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন এই মহানায়ক পশ্চিমা দেশে মুসলিমদের বিরুদ্ধে যত হামলা বিএনপিতে বহিষ্কার মৌসুম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বগুড়ার গাবতলী দক্ষিনপাড়া’য় নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে গনসংযোগ বগুড়ার গাবতলী লাংলুহাটে বিরাজ উদ্দিনের ৮তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত খোকা থেকে বঙ্গবন্ধু বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন অস্ত্র আইনে পরিবর্তন আনবে নিউজিল্যান্ড: প্রধানমন্ত্রী স্ত্রী-সন্তানের অবহেলায় রশিতে বাঁধা বিসিএস ক্যাডার বিজ্ঞানীর জীবন গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব প্রত্যাহার দাবিতে মানববন্ধন কলকাতার নতুন ছবিতে নুসরাত ফারিয়া নগ্ন ছবি দিয়ে নারী দিবসের শুভেচ্ছা জানালেন বিদ্যা
‘অসমাপ্ত কাজের দায়িত্ব দিয়ে চলে গেল’

‘অসমাপ্ত কাজের দায়িত্ব দিয়ে চলে গেল’

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সাইদুল আনাম টুটুলের মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হচ্ছে

বিনোদন ডেস্ক : ‘টুটুল (সাইদুল আনাম টুটুল) নৈতিকতার প্রশ্নে আপসহীন ছিল। আমি এবং আমার সন্তানেরা অত্যন্ত গর্বিত—নৈতিকতার প্রশ্নে সে কখনোই কোনো আপস করেনি। কোনো আর্থিক সুবিধা তার প্রয়োজন হয়নি। সে প্রচারবিমুখ ছিল।’

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে স্বামী বরেণ্য পরিচালক সাইদুল আনাম টুটুলকে নিয়ে কথাগুলো বলছিলেন তাঁর স্ত্রী মোবাশ্বেরা খানম। স্বামীকে নিয়ে কথাগুলো বলতে গিয়ে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের আয়োজনে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য টুটুলের মরদেহ বেলা ১১টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আনা হয়। দেড় ঘণ্টার বেশি সময় তাঁকে সেখানে রাখা হয়।

মোবাশ্বেরা খানম বলেন, ‘আমি এ কারণেও গর্বিত যে সে বেঁচে থাকতে বলেনি, আমি এই, আমি সেই। আজকে হয়তোবা আপনারা যাঁরা এখানে আছেন, তাঁরা হয়তো তার এসব গুণের কথা বলছেন। আমি আপনাদের প্রতি গভীরভাবে কৃতজ্ঞ। তার বেদনা ছিল। সেই বেদনাকে শুধু এইভাবে ব্যক্ত করব এবং গ্রহণ করব অলৌকিক আনন্দের ভার, বিধাতা যাঁহারে দেন, তাঁর পক্ষে বেদনা অপার। সেই অপার বেদনা নিয়ে নিজের অসমাপ্ত কাজের (‘কালবেলা’ সিনেমার) গুরুদায়িত্ব আমার কাঁধে দিয়ে চলে গেল।’


বিজ্ঞাপনচিত্র, টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রের গুণী এই নির্মাতাকে শেষবারের মতো দেখতে শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, অভিনয়শিল্পী, নাট্যপরিচালক, চলচ্চিত্র পরিচালক, উদ্যোক্তা, টেলিভিশন ব্যক্তিত্বসহ অনেক শ্রেণি–পেশার মানুষের উপস্থিত ছিলেন।

স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে টুটুলের স্ত্রী বলেন, ‘আমি কোনো দিন টুটুলকে স্বামী মনে করিনি। কারণ, স্বামী শব্দের অর্থ প্রভু। সে কখনো আমার প্রভু ছিল না, সে ছিল আমার বন্ধু। আমি অভিভূত হচ্ছি, তার প্রতি সবার শ্রদ্ধা নিবেদন দেখে। আজ এখানে (শহীদ মিনার) এসে ইতিহাসের একটি নির্মম সত্য মনে পড়ছে—শিল্পী, সাহিত্যিক, সৃজনশীল কাজে যাঁরা জড়িত, তাঁরা মৃত্যুর পরে স্বীকৃতি পান। বেঁচে থাকতে নয়। টুটুলের বেলায় সেই সত্য আবারও প্রমাণিত হলো। বেঁচে থাকতে তার ভেতরে কষ্ট ছিল। সে সৃজনশীল তাড়নায় তাড়িত হতো, সেই কাজ সে সব সময় করতে পারেনি। কারণ, শিল্পীদের তাড়না থাকে, আর্থিক সামর্থ্য থাকে না। আর্থিক সামর্থ্য যাঁদের থাকে, তাঁরা শিল্প চান না, চান ব্যবসা।’

টুটুলকে শেষবারের মতো দেখতে এসেছিলেন শিক্ষাবিদ মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও ড. ইয়াসমীন হক। গুণী এই নির্মাতাকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন জাফর ইকবাল। তিনি বলেন, ‘টুটুল ভাই এত তাড়াতাড়ি চলে যাবেন, এটা কল্পনাও করিনি। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ শুনে এত খারাপ লেগেছে বলে বোঝানো যাবে না। তাঁকে আমি অনেক দিন ধরে চিনতাম। তাঁর কাজ সম্পর্কেও জানতাম। তাঁকে হারানোর শোক ভোলার নয়। তিনি নিজেই ছিলেন একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। তাই কাজের মধ্যেও মুক্তিযুদ্ধের বাস্তবতা তুলে ধরেছেন। তাঁর জীবনের শেষ সিনেমা “কালবেলা”-ও মুক্তিযুদ্ধের কাহিনি অবলম্বনে তৈরি হচ্ছিল। এমনটা একটা মানুষের হঠাৎ চলে যাওয়া নিঃসন্দেহে বেদনার। আমরা সত্যিই আপনাকে মিস করব।’

স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, ‘আমার মনে পড়ে, বাসে করে টুটুল ভাই কলেজে যেতেন, আমি স্কুলে। ক্লাস শেষে ফিরে বিকেলে ডিআইটির সিঁড়িতে বসে নতুন নতুন পরিকল্পনা, টেলিভিশনে কী অনুষ্ঠান করা যায়, তা চিন্তা করতাম। তখন টুটুল ভাই অনেক বড় বড় কাজ করতেন। অনেক কাজ করেছেন। তিনি তাঁর মতো করে কাজ করতেন। তাঁর যেটা মনে হয়নি, সেটা তিনি কখনোই করেননি। যেটাই করতেন, মন দিয়ে করতেন। অনেক কাজ করতে না পেরে টুটুল ভাই একেবারেই অভিমান করে আমাদের কাছ থেকে চলে গেলেন।’

বরেণ্য নির্মাতা সাইদুল আনাম টুটুলকে নিয়ে কথা বলেন ইমেরিটাস অধ্যাপক সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সৈয়দ হাসান ইমাম, নাসির উদ্দীন ইউসুফ বাচ্চু, মোরশেদুল ইসলাম, মামুনুর রশীদ, রাইসুল ইসলাম আসাদ, মসীহউদ্দিন শাকের, তারিক আনাম খানসহ আরও অনেকে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাইদুল আনাম টুটুলের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে। সেখানে বাদ জোহর জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এরপর মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে বরেণ্য এই পরিচালককে সমাহিত করা হয়।

১৫ ডিসেম্বর রাতে হৃদ্‌রোগে আক্রান্ত হয়ে রাজধানীর ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন সাইদুল আনাম টুটুল। গত মঙ্গলবার বেলা আড়াইটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাজধানীর ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালে মারা যান তিনি। দীর্ঘদিন সিনেমা নির্মাণ না করলেও সম্প্রতি একটি নতুন ছবির শুটিং শুরু করেছিলেন টুটুল। সরকারি অনুদানে ‘কালবেলা’ নামের সিনেমাটির কাজ শেষ করতে পারেননি। ২০০১ সালে আইন ও সালিশ কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত ‘নারীর ৭১ ও যুদ্ধপরবর্তী কথ্যকাহিনি’ বই থেকে ‘কালবেলা’ ছবির গল্প নেওয়া হয়েছে। সাইদুল আনাম টুটুল ডিরেক্টরস গিল্ডের প্রথম সাধারণ সম্পাদক ও আজীবন সদস্য। ২০০৩ সালে ‘আধিয়ার’ নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করে প্রশংসিত হন। এর আগে ‘সূর্যদীঘল বাড়ী’ সিনেমা সম্পাদনার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘ঘুড্ডি’, ‘দহন’, ‘দীপু নাম্বার টু’ ও ‘দুখাই’য়ের মতো সিনেমার সঙ্গে রয়েছেন তাঁর সংশ্লিষ্টতা, যেগুলোর সম্পাদনায় ছিলেন তিনি।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 jonotarbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com