বুধবার, ১৯ ডিসেম্বর ২০১৮, ০৭:৫৮ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরনাম
অসুস্থ্য লতিফ সিদ্দিকী: মেডিকেল বোর্ড গঠন গাবতলীতে বিএনপিনেতা খোকার নামাজে জানাযা তালতলীতে আন্তর্জাতিক অভিবাসী দিবস পালিত গাজীপুর-২ আসনে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থী সালাউদ্দিন সরকারের জনসংযোগ গাজীপুর-২ আসনে খাদিজা রাসেলের নির্বাচনী গণসংযোগ বিপুল পরিমাণ ফেন্সিডিলসহ ট্রাক উদ্ধার টঙ্গীতে মাদক চক্রের প্রধান ইমরানসহ গ্রেফতার-৬ টঙ্গীতে ঝিড়ি ঝিড়ি বৃষ্টির মধ্যে নৌকার প্রচারণা চালাছে টঙ্গী ছাত্রলীগ হামলা চালিয়ে হাতপাখার গণজাগরণে বাধাগ্রস্ত করা যাবে না খুলনায় চরমোনাই পীর শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকলেই ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মীদের ভাগ্য পরিবর্তন ঘটবে ড. মহীউদ্দীন খান আলমগীর দেবপুরে স্ত্রী ও ২ সন্তানকে হত্যা করে যুবকের আত্মহত্যা সারাদেশে সূর্য উঠেনি! সারাদিন গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্ট কুমিল্লায় ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন কুমিল্লায় আসছেন ফখরুল, রব কাদের সিদ্দিকী গাইবান্ধা জেলা পুলিশের কল্যাণ ও মাসিক অপরাধ সভা অনুষ্ঠিত গাইবান্ধায় গুচ্ছ গ্রামে বিদুত্যয়নের উদ্বোধন করলেন জেলা প্রশাসক সেবাস্টিন রেমা লোহাগড়ায় দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থীর মাঝে বৃত্তি প্রদান রুহের মাগফিরাত কামনা ঝিনাইগাতীতে সড়ক দূর্ঘটনায় নিহত-১ ইন্দুরকানীতে নব বিবাহীত যুবকের বিদ্যুৎ স্পষ্ট হয়ে মৃত্যু পাইকগাছায় আমন চাল সংগ্রহ অভিযানের উদ্বোধন
মৃত, প্রবাসীদের সমর্থনে প্রার্থী হতে চেয়েছেন তারা

মৃত, প্রবাসীদের সমর্থনে প্রার্থী হতে চেয়েছেন তারা

জনতার বাংলা রিপোর্ট : জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হতে হলে মনোনয়নপত্রের সঙ্গে এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা রিটার্রনিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করতে হয়। তবে ইতোমধ্যে কেউ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকলে তার ক্ষেত্রে এ শর্ত প্রযোজ্য নয়। এবার বেশ কয়েকজন প্রার্থী এক শতাংশ ভোটারের এমন তালিকা জমা দিয়েছেন। যাদের অনেকে অনেক আগেই মারা গেছেন, অনেকে দীর্ঘদিন যাবৎ বিদেশে আছেন।

অনেক ভোটার আবার স্বাক্ষর দেননি বলে জানিয়েছেন। অনেকে আবার তার তালিকায় এমন ভোটারেরর নাম উল্লেখ করেছেন। যারা ওই নির্বাচনী এলাকার ভোটারই নন। অনেক ভোটারের আবার অস্তিত্বই খুঁজে পাওয়া যায়নি।

যাচাই বাছাই করে রিটার্নিং কর্মকর্তা যে ৭৮৬টি মনোনয়নপত্র বাতিল করেন। এরমধ্যে এক শতাংশ ভোটার সংক্রান্ত কারণে ৩২১ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। বাতিল করা মনোনয়নের কারণ বিশ্লেষণ করে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

জানা গেছে, মনোনয়নপত্র বাতিল হওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোখলেছুর রহমান যাকে এক শতাংশ ভোটারেরর মধ্যে সমর্থক হিসেবে তালিকায় জমা দিয়েছেন। তালিকার ১৯০০ নম্বরে থাকা আমেনা খাতুন ৯/১০ মাস আগে মারা গেছেন।

একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. আনিছুর রহমানের দেয়া তালিকার ৩২১৮ নম্বরে থাকা আকাশ মিয়া ৫/৭ বছর বিদেশে থাকেন। তিনি সর্বশেষ ১ বছর যাবৎ বিদেশে অবস্থান করছেন।

এই আসনের আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. শাহ জাহান আলম সাজুর দেয়া তালিকার ১৬১৯ নম্বরে থাকা হোসনে আরা ১ বছর আগে মারা গেছেন এবং ৫০৫ নম্বরে থাকা রহিম বিদেশে থাকেন।

এই আসনের সৈয়দ তানবির হোসেনের দেয়া তালিকার ৩৩৪ নম্বরে থাকা জোসনা বেগম ও ৪৯০ নম্বরের থাকা ঝরনা মারা গেছেন বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনের স্বতন্ত্র মনোনয়ন প্রত্যাশী সৈয়দ নজরুল ইসলাম যাকে এক শতাংশ ভোটারেরর মধ্যে  সমর্থক হিসেবে তালিকায় জমা দিয়েছেন। সেই তালিকার ১৮২৯ নম্বরে থাকা মিস্টার ১ বছর ও ১৯৫৮ নম্বরে থাকা সেলিম মিয়া ৭ মাস যাবৎ বিদেশে অবস্থান করছেন।

এছাড়া নোয়াখালী -৬ আসনের ছাইফ উদ্দিন আহমদ যে তালিকা দিয়েছেন। সেই তালিকা থেকে  দ্বৈব চয়নের মাধ্যমে যাচাই করা দশজনের মধ্যে ৯ জন ভোটারের স্বাক্ষরে মিল নেই। তালিকার ২২১ নম্বরে থাকা  বাকি যিনি ভোটার তিনি প্রায় ১০ বছর আগে মারা গেছেন উল্লেখ করে রিটার্নিং কর্মকর্তা তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন।

রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ইসিতে আসা তথ্য থেকে আরো জানা যায়, ঋণখেলাপীর জন্য ১২৯ জন, হলফনামায় স্বাক্ষর না থাকার কারণে ৬০, দলের মনোনয়নের প্রমাণ না থাকার কারণে ৫৪, লাভজনক পদের জন্য ৪৬, বিল খেলাপীর দায়ে ৩৯, রিটার্ন দাখিল না করার কারণে ৩১, তথ্য গোপনের জন্য ২৪, সাজাপ্রাপ্ত হওয়ার কারণে ১৬, নমুনা স্বাক্ষরে মিল না থাকার কারণে ৫, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট না খোলার কারণে ৫, হলফনামায় ভুল তথ্য ও তথ্যে গড়মিলের কারণে ৫ জনের প্রার্থীতা বাতিল করা হয়েছে।

এছাড়া, অবসরের পর ৩ বছর অতিবাহিত না হওয়া, চুক্তিবদ্ধ ঠিকাদার হওয়া, নোটারি পাবলিকেশনের স্বাক্ষর না থাকার কারণে ২ জন করে প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করা হয়েছে।

একজন করে বাতিল হওয়ার কারণের মধ্যে রয়েছে- ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তির স্বাক্ষরে অমিল, অনিবন্ধিত দলেল প্রার্থী হওয়া, প্রস্তাবক ও সমর্থক একই ব্যক্তি হওয়া, জামানতের টাকা না দেওয়া, অনলাইনে দাখিল করলেও বাছাইয়ের সময় মূল কপি দাখিল না করা, প্রার্থীর নাম ও আসন নম্বর ফ্লুইট দিয়ে পরিবর্তন করা, ভোটার তালিকায় প্রার্থীর নাম না থাকা, মনোনয়নপত্র ঘষামাজা করা ও ফ্লুইট দিয়ে মোছা, প্রস্তাবক ও সমর্থক সঠিক নয়, প্রার্থীর ভোটার নম্বর ভুল, প্রার্থী বাংলাদেশের ভোটার নয়, তফসিল ঘোষণার আগের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা ও ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নম্বর না দেওয়া।

এছাড়া বেশ কিছু মনোয়নপত্র একাধিক কারণে বাতিল করা হয়েছে বলেও রিটার্নিং কর্মকর্তাদের পাঠানো প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

২৮ নভেম্বর দাখিলের শেষ দিন পর্যন্ত সারাদেশে ৩ হাজার ৬৫টি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। এর মধ্যে দলীয় ২ হাজার ৫৬৭টি ও স্বতন্ত্র ৪৯৮টি মনোনয়র জমা পড়ে।

২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে ৭৮৬ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়। এগুলোর মধ্যে-বিএনপির ১৪১টি, আওয়ামী লীগের ৩টি এবং জাতীয় পার্টির ৩৮টি, স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয় ৩৮৪টি। বিএনপির বৈধ প্রার্থীর সংখ্যা দাঁড়ালো ৫৫৫ জনে ও আওয়ামী লীগের প্রার্থী সংখ্যা ২৭৮ জন। বর্তমানে বৈধ মনোনয়ন রয়েছে ২ হাজার ২৭৯টি।

সোমবার আপিলের প্রথম দিন ৮৪টি, মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিন ২৩৭টি ও বুধবার তৃতীয় দিনে ২২২টি মোট ৫৪৩টি আবেদন জমা পড়ে। বৃহস্পতি, শুক্র ও শনিবার শুনানি করে নিষ্পত্তি করবে কমিশন।

৯ ডিসেম্বর মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হবে। আগামী ৩০ ডিসেম্বর ভোটগ্রহণ।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 jonotarbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com