বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরনাম
গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা প্রয়োজন তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব উদ্বেগজনক বিদ্যুতে দক্ষিণ কোরীয় বিনিয়োগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৪ দলের আহ্বান ভারত কী আমাদের জিতিয়ে দিতে পারবে: কাদের বাংলাদেশে স্কাইপ বন্ধ ‘স্কাইপ বন্ধ করে সরকার ঘৃণ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো’ শীতকালীন সবজিচাষে খুশি পঞ্চগড়ের কৃষকরা চলনবিলে নিভু নিভু করছে চাকা তৈরির পেশা নির্ভুল পথেই হাঁটছেন এরশাদ’ ‘পুলিশকে অ্যাকশনে নেয়ার উদ্দেশ্য ছিল সংঘর্ষের পরিকল্পনাকারীদের’ সেই হেলমেটধারী গ্রেফতার কার্জন হলের সামনে থেকে নবজাতক উদ্ধার ইভিএম নিয়ে সক্রিয় হচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নীতিমালার বাইরে গেলে পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন বাতিল: ইসি সচিব হাসপাতালে স্ত্রীর লাশ ফেলে পালালেন স্বামী এরশাদ ঢাকায়, না রংপুরে সিংহভাগ ইসলামী দল ক্ষমতাসীন দলে ‘ঘটনা ঘটলেও তদন্ত কমিটি করেনি ইসি’ দখল ও কারচুপি ঠেকাতে কেন্দ্র পাহারার নির্দেশ
মাদক নিয়ন্ত্রণ বিল পাস

মাদক নিয়ন্ত্রণ বিল পাস

ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, শুধু মাদকের জন্য অনেক দেশ কিংবা অনেক সভ্যতা ধ্বংস হয়ে গেছে। সাম্প্রতিক ইতিহাসও তার ব্যতিক্রম নয়। মাদকের বিস্তৃতির কারণে অনেক দেশের অর্থনীতি ধ্বংসপ্রায়, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি শোচনীয়, খুনাখুনি নৈমিত্তিক ঘটনা, অর্থাহৃ সমাজে চরম নৈরাজ্যকর এক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। সংগত কারণেই বাংলাদেশে মাদকের বিস্তৃতি দেখে সচেতন মহল থেকে এমনই নানা আশঙ্কার কথা বলা হচ্ছিল। তারই পরিপ্রেেিত শুরু হয় দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই অভিযানে বহু মাদক বিক্রেতা কিংবা বাহক ধরা পড়েছে। বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু মূল হোতারা গ্রেপ্তার হয়েছে সে তুলনায় অনেক কম। এর জন্য অনেকেই আইনের কিছু দুর্বলতাকে দায়ী করছিলেন। অবশেষে গত শনিবার জাতীয় সংসদে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ বিল ২০১৮ পাস হয়েছে। এতে মাদক পরিবহন, কেনাবেচা, সংরণ, উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, অর্থলগ্নিকরণ, পৃষ্ঠপোষকতাসহ বিভিন্ন অপরাধে সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ড বা মৃত্যুদন্ডর বিধান রাখা হয়েছে। কিন্তু শুধু কঠোর আইন কি মাদকদ্রব্যের বর্তমান বাড়াবাড়ি কমাতে পারবে? এ প্রশ্ন অনেকেরই।
বিশেষজ্ঞদের মত, শুধু আইন প্রণয়ন নয়, আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, মাদক কারবারি ধরা পড়লেও অর্থের বিনিময়ে ছাড়া পেয়ে যায়, বছরের পর বছর মাদক মামলা ঝুলে থাকে, আসামিরা দ্রুততম সময়ে জামিন পেয়ে যায়, দুর্বল তদন্ত প্রতিবেদনের কারণে অনেক আসামি ছাড়াও পেয়ে যায়! এসবের প্রতিকার কী? জানা যায়, নতুন আইনে নির্দোষ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত জামিন না দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। মামলাজট কমাতে জেলাপর্যায়ে ট্রাইব্যুনাল গঠনের কথা বলা হয়েছে। এগুলো দ্রুত কার্যকর করতে হবে। কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ মনে করেন, কারো কাছে ২৫ গ্রামের বেশি হেরোইন পাওয়া গেলে এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে তাঁকে মৃত্যুদন্ড দেওয়ার যে বিধান রাখা হয়েছে, তার মূল শিকার হবে দরিদ্র বাহকরা। বড় কারবারি বা মূল হোতারা অনেক েেত্রই অনৈতিক লেনদেনের মাধ্যমে গ্রেপ্তার এড়িয়ে যাবে কিংবা নিজেদের ছাড়িয়ে নেবে; কিন্তু সামান্য বাহকদের পে তা করা সম্ভব হবে না। অথচ এদের অধিকাংশই এ কাজে যুক্ত হয় একান্ত দায়ে পড়ে। এদেরই মৃত্যুদন্ড হবে সবচেয়ে বেশি। বিষয়টি আইনপ্রণেতাদের ভেবে দেখা প্রয়োজন।
মাদকের অভিশাপ থেকে যেকোনো মূল্যেই হোক দেশকে মুক্ত রাখতে হবে। এজন্য আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন করতে হবে। সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সদস্যদের সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। সমাজে মাদকবিরোধী জনসচেতনতা তৈরির পাশাপাশি তরুণদের জন্য সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা করতে হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 jonotarbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com