বুধবার, ২১ নভেম্বর ২০১৮, ১০:১৯ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরনাম
গ্রহণযোগ্য নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা প্রয়োজন তরুণদের মধ্যে বেকারত্ব উদ্বেগজনক বিদ্যুতে দক্ষিণ কোরীয় বিনিয়োগ চাইলেন প্রধানমন্ত্রী সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ১৪ দলের আহ্বান ভারত কী আমাদের জিতিয়ে দিতে পারবে: কাদের বাংলাদেশে স্কাইপ বন্ধ ‘স্কাইপ বন্ধ করে সরকার ঘৃণ্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলো’ শীতকালীন সবজিচাষে খুশি পঞ্চগড়ের কৃষকরা চলনবিলে নিভু নিভু করছে চাকা তৈরির পেশা নির্ভুল পথেই হাঁটছেন এরশাদ’ ‘পুলিশকে অ্যাকশনে নেয়ার উদ্দেশ্য ছিল সংঘর্ষের পরিকল্পনাকারীদের’ সেই হেলমেটধারী গ্রেফতার কার্জন হলের সামনে থেকে নবজাতক উদ্ধার ইভিএম নিয়ে সক্রিয় হচ্ছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নীতিমালার বাইরে গেলে পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধন বাতিল: ইসি সচিব হাসপাতালে স্ত্রীর লাশ ফেলে পালালেন স্বামী এরশাদ ঢাকায়, না রংপুরে সিংহভাগ ইসলামী দল ক্ষমতাসীন দলে ‘ঘটনা ঘটলেও তদন্ত কমিটি করেনি ইসি’ দখল ও কারচুপি ঠেকাতে কেন্দ্র পাহারার নির্দেশ
মুসলিম শাসকদের প্রভুতোষন ও অনৈক্যে চোখের পানি ঝরছে

মুসলিম শাসকদের প্রভুতোষন ও অনৈক্যে চোখের পানি ঝরছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : মুসলমানরা হযরত আদম (আঃ) এর আওলাদ (বংশধর) ও আখেরী জামানার নবী রাসূল (সাঃ) এর উম্মত। যাদের রয়েছে যুদ্ধের ময়দানে অসংখ্য বীরত্বের উদাহরণ ও অবিস্মরণীয় ইতিহাস। যে কারণে আবহমান কাল থেকে মুসলমানদের মধ্যে অনৈক্য ও ফেৎনা সৃষ্টি করে রাখছে দুনিয়ার কায়েমী স্বার্থবাদী ইহুদী, নাসারা ও পরাক্রমশালীরা। যেমনিভাবে তাদেরই ইঙ্গিতে চলছে ইয়েমেন, সিরিয়া, আফগানিস্তান ও অন্যান্য মুসলিম দেশে জাতিগত ও রাজনৈতিক সহিংসতা, অর্ন্তদ্ব›দ্ব ও আত্মঘাতি যুদ্ধ। যার ফলে এই সমস্ত দেশে হাজার হাজার মুসলীম নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ, শিশু অকাতরে বোমার আঘাতে আহত, নিহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করছে। তাদের ইন্ধনেই চলছে ভ্রাতৃপ্রতীম ইরানের সাথে মার্কিন সৌদি বৈরীতা। মুসলমানদের জেরুজালেম ও আল আকসার ন্যায় সংঘত ও ন্যায্য অধিকার আদায়ের ওপর মার্কিন ও সৌদির সমর্থনে ইসরাইলের কাপুরুষোচিত নির্যাতন, হামলা ও নৃশংসতা। তেমনিভাবে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য থেকে অমানুষিকভাবে নির্যাতিত ও বিতাড়িত হয়ে আসা দশ লাখের বেশী রোহিঙ্গা মুসলমান শরণার্থী হয়ে আশ্রয় নিয়েছে বাংলাদেশে। ইতিপূর্বে তাদের ইন্ধন ও ইঙ্গিতেই সংগঠিত হয়েছে ভ্রাতৃপ্রতীম মুসলিম রাষ্ট্র কুয়েত-ইরাক ও ইরাক-ইরান দীর্ঘস্থায়ী রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ।
 ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর রবার্ট কাইভ নবাব সিরাজউদ্দৌলাকে পরাজিত করে দিল্লীর সিংহাসনে আরোহন করে থাকে। এমন বিশ্বাসঘাতকদের আরও অসংখ্য ঘটনা ইতিহাসের পাতায় আজও অমর হয়ে রয়েছে। যে বেদনার অনন্ত অসীম জ্বালা যে কোন বিবেকবান মুসলমানদের পক্ষে চোখের পানি (অশ্রæ) ধরে রাখা বাস্তবিকই কঠিন। মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে ইংরেজদের ১৯৬ বছরের শাসন ইহারই সাক্ষ্য বহন করে থাকে।
 বিশ্বের পরাক্রমশালী ও শক্তিধর বড় দেশ সুপরিকল্পিত পরিকল্পনার মাধ্যমে (ঈধষপঁষধঃবফ ধহফ ঢ়ৎবঢ়ষধহহবফ) মুসলমানদিগকে আজ্ঞাবহ করে রাখার নিরিখে মুসলিম দেশগুলোর ওপর যুদ্ধ বিগ্রহ সংঘাত ও একটার পর একটা ভ্রাতৃপ্রতীম অর্ন্তদ্ব›দ্ব ও রাজনৈতিক বিরোধ লাগিয়েই রাখছে। এ সুযোগে একদিকে যেমন ওরা তাদের অস্ত্র বিক্রীর বাজার সম্প্রসারিত করছে অন্য দিকে মুসলিম দেশগুলোর অর্থনৈতিক মেরুদন্ডে কুপোঘাত ও ভেঙে দেয়ার অর্ন্তহীন দানবীর প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছে। তদোপরি পরাক্রমশালীরা ছোট ছোট মুসলিম দেশগুলোকে বন্ধুর বেশে রাজনৈতিক স্বার্থসিদ্ধির জন্য একের বিরুদ্ধে অন্যকে লাগিয়ে অনৈক্য সৃষ্টি করতেও কুন্ঠাবোধ করছে না। যাকে বলা হয়ে থাকে মুখে মধু অন্তরে বিষ (মোনাফিক)। যদিও এর মূলে রয়েছে মুসলীম শাসকদের প্রভুতোষন, একে অপরের কুৎসা রচনা ও তাদের কাছে নিজেদের সরলতার সুযোগে একে অপরের দুর্বলতা তোলে ধরা।
তদোপরি চানক্য কৌশলের মাধ্যমে পরাক্রমশালীরা এই সুযোগে লুফে নিয়ে এমন অবস্থা সৃষ্টি করছে যেন মুসলমানদের শত্রæ মুসলমান এবং এক মুসলিম শাসকের শত্রæ আরেক মুসলিম শাসক। মুসলমানরা আল্লাহর পবিত্র ঘর খানায়ে ক্কাবায় হজব্রত পালন ও মদীনাতে রাসূল (সাঃ) এর রওয়াজা মোবারক জিয়ারত করে থাকে। হিন্দু বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরাও ভারতের গয়াখাসী ও
চলমান পাতা/২
পাতা: ২
মথুরায় পূণ্য সাধনে গিয়ে থাকে। আর বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে নির্বাচন আসলে এদেশের কিছু রাজনৈতিক দলের নেতারা ভারতের নয়াদিল্লীতে যায়, সেই দেশের সরকার ও সরকার দলীয় শীর্ষ নেতাদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করতে। তদোপরি দুনিয়ার পরাক্রমশালী রাষ্ট্রপ্রধান থেকে নিয়ে কোনো কোনো দেশের রাষ্ট্রদূত, হাইকমিশনার, কমনওয়েলথ ও ইইউ প্রতিনিধিরাও এদেশের নির্বাচনকালে ভ‚মিকা রাখতে দৃশ্যপটে আসে। এসব কিছুতে স্বাধীন বাংলাদেশের জনমানুষের ভাগ্যের নির্মম পরিহাস বললে অত্যুক্তি হওয়ার মতো তেমন কিছু অনুস্বর্গ হয়তো না ভাবারই কথা। আবার অনেকেই মনে করে থাকে প্রতিবেশী ভারত এ দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিমন্ডলে এমন কী শিকড় বিস্তৃত করে রেখেছে যে কারণে কিছুদিন পূর্বে জাপা নেতা (এরশাদ) দুইবার আওয়ামী লীগ ও বিএনপি ভাবতে গিয়ে ভারতীয় নেতা ও সে দেশের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ করে এসেছে বলে দেশী বিদেশী গণমাধ্যম সূত্রে এবং জাপা মহাসচিব প্রেস কনফারেন্সেও তা বলেছে।
 অনেকেই মনে করে, যে কারণেই হয়তোবা এদেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রভুতোষন অনৈক্য ও অর্ন্তদ্ব›েদ্বর সুযোগে এদেশের ১৬ কোটি জনমানুষের কলিজায় আঘাত দিয়ে ভারত লাগামহীনভাবে প্রতিনিয়ত অন্যায়ভাবে অনেক কিছু করতে ও বলতে দ্বিধা সংকোচ করছে না। যা বাংলাদেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের ওপর প্রচন্ড আঘাতেরই নামান্তর। কলামের পরিধির কারণে যা সংক্ষিপ্ত কলেবরে উল্লেখ করা হয়। (ক) ভারত একদিকে যেমন বাংলাদেশকে বলছে বন্ধু, অন্যদিকে বাঙালী খেদাও আন্দোলনকে ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় ৮টি রাজ্যের মধ্যে ৬টি রাজ্যে ব্যাপক তোড়জোড় শুরু করে দিয়েছে বিজেপি। দীর্ঘ বিবৃতিতে সম্প্রতি বিজেপির সভাপতি অমিত শাহ বলেছেন আমাদের এনআরসি (ঘধঃরড়হধষ জবমরংঃৎধঃরড়হ ঈধৎফ- ঘজঈ) প্রক্রিয়া ও অনাগরিকদের বাংলাদেশ ফেরৎ পাঠানোর ব্যাপারে দলের (বিজেপি) নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং এ সিদ্ধান্তের অন্যথা হবেনা বলেও জানা যায় (যুগান্তর ১৮/৯/১৮ ইং)। এছাড়া ১১/৯/১৮ ইং রাজস্থানের জয়পুরে অমিত শাহ বলেছেন, ভারতের মাটিতে একজনও বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীকে থাকতে দেয়া হবে না। ১০/৯/১৮ ইং দিল্লীতে এনআরসি (ঘজঈ)  বিষয়ক এক সভায় বিজেপির সাধারণ সম্পাদক রাম মাধব ত্রিডি ফর্মুলা দিয়েছেন। প্রথম ডি হল ডিকেটশন, অর্থাৎ বাঙালীদের চিহ্নিত করণ। দ্বিতীয় ডি হল ডিলিট, অর্থাৎ ভোটের তালিকা থেকে নাম কেটে দিয়ে যাবতীয় সরকারী সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত করণ। তৃতীয় ডি হচ্ছে ডিটেকশন, অর্থাৎ নাগরিক পদ্ধতিতে যাদের নাম বাদ পড়বে সেইসব বাঙালীদেরকে বাংলাদেশে ফেরৎ পাঠানো হবে। এই প্রক্রিয়ায় আসামে এনআরসি (ঘজঈ) তালিকায় বাদ পড়া ৪০ লাখ বাঙালীকে বাংলাদেশে খেদিয়ে দেয়া হবে।
 (খ) ২ অক্টোবর মঙ্গলবার টাইমস অব ইন্ডিয়ার সংবাদের সূত্রে জানা যায়, ৩০/৯/১৮ ইং রোববার সকালে বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন ভারতীয় রাজ্য ত্রিপুরার আগরতলায় ত্রিপুরা সরকারের অতিথি শালায় এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান বিজেপি সরকারের সংসদ সদস্য সুব্রামনিয়াম স্বামী মিথ্যা ও অবাস্তব অভিযোগ এনে বলেছেন, বাংলাদেশে গায়ের জোরে হিন্দুদের ধর্মান্তরিত ও মন্দির দখল করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে এটা বন্ধ না হলে বাংলাদেশ দখল করারও হুমকি দেয়া হয়েছে। সুব্রামনিয়াম স্বামী আরও বলেছেন, বাংলাদেশে হিন্দুদের ধর্মান্তরিত ও মন্দির দখল করছে পাগল বাংলাদেশীরা। আরও বলেছে শেখ হাসিনার প্রতি ভারতের সমর্থন রয়েছে। কিন্তু হিন্দুদের গায়ের জোরে ধর্মান্তরিত ও মন্দির ভাঙার তান্ডব বন্ধ করতে হবে। হিন্দুদের বিরুদ্ধে পাগলামী বন্ধ না হলে যেমনি বাংলাদেশ দখল করতে হবে তেমনি ভারতের তিন হিন্দু মন্দির পুনরুদ্ধার যথা অযোদ্ধার রাম মন্দির, কাশ্মীরের বিশ্বনাথ মন্দির ও মথুরার কৃষ্ণ মন্দিরের কথা বলা হয়ে থাকে।
(গ) এএনআই নিউজের সূত্রে জানা যায়, ১ অক্টোবর ভারতের মথুরায় নওঝিল এলাকায় এক অনুষ্ঠানে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা গিরিরাজ সিং বলেছেন, মুগল স¤্রাট বাবর নয়, মুসলমারা রামের বংশধর। তাই তাদের অযোধ্যায় রাম মন্দির নির্মাণে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়া উচিত।
মুসলিম শাসকদের ঢালাওভাবে বিদেশী প্রভুতোষন ও নিজেদের মধ্যে অনৈক্যের কারণে পরাক্রমশালী ও বড় দেশ যা ইচ্ছা তা বলে যাচ্ছে বলে রাষ্ট্র ও দেশ নিয়ে বিশ্লেষকরা এসব কিছু মনে করে থাকে। যে কারণে ০২/৯/১৮ ইং মঙ্গলবার ডোনাল্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যে এক সমাবেশে বলেছেন “আমরা আরবকে সুরক্ষা দিচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া সৌদি শাসক দুসপ্তাহও টিকতে পারবে না।” অপরদিকে পরাশক্তিধর রাশিয়ার ভøাদিমির পুতিনের সহযোগিতায় গণ অসন্তোষের পরও টিকে থাকার জন্য হাফেজ আল বাশার সিরিয়াতে নারী, পুরুষ, বৃদ্ধ ও শিশুদের বোমার আঘাতে যেমনি নির্মম নিষ্ঠুরভাবে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাচ্ছে তেমনি ইয়েমেনে সৌদি কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার জন্য হুতি বিদ্রোহীদের দমনে সৌদি আরব মার্কিনীদের সহযোগিতায় একই কায়দায় অমানবিক, নির্দয়, নৃশংস ও অন্যায়ভাবে বিশ্ব বিবেক ও মানবতাকে চোখের পানিতে ভিজিয়ে নির্মম নিষ্ঠুরভাবে আহত, নিহত ও পঙ্গু করতে দ্বিধা সংকোচ করছে না।
ইয়েমেনের প্রেসিডেন্ট আবদে রাব্বু মানুসরের অনুগত বাহিনীকে সহায়তার ২০১৫ সালের ২৬ মার্চ বিমান হামলা চালায় সৌদি জোট। সেই থেকে গত বছরে প্রায় ১৭ হাজার অভিযান চালিয়েছে সৌদি জোট। রাজধানী সানা থেকে শুরু করে একেবারে প্রত্যন্ত এলাকা পর্যন্ত কোনো জায়গাই বাদ যাচ্ছে না। এসব অভিযানের এক তৃতীয়াংশই চালানো হচ্ছে বেসামরিক এলাকায়। ফলে এ পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছে ১০ হাজারেরও বেশী নাগরিক। গুরুতর আহত ও পঙ্গু হয়েছে লাখ লাখ। ধ্বংস স্তুপে পরিণত হয়েছে মধ্য প্রাচ্যের সবচেয়ে দরিদ্র এ দেশটির শহরগুলো। হামলায় ধ্বংস হয়েছে ১০ হাজার ৬০০ শত স্কুল। শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়েছে ৪০ লক্ষাধিক শিশু। ১৭/৯/১৮ ইং আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানা যায়, বর্তমানে ইয়েমেনের উপক‚লীয়
চলমান পাতা/৩
পাতা: ৩
অঞ্চল হুদায়দায় নিষ্ঠুরতম বিমান হামলা চালায় মার্কিন ও সৌদি জোট। গত সপ্তাহে জাতিসংঘের উদ্যোগে এক শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হলে নতুন করে হামলা শুরু হয়। নিষ্ঠুরতা, নৃশংসতা ও অমানবিকতা ছাড়া সেখানে এখন মানবতার কিছুই আর অবশিষ্ট নেই।
সৌদির ইন্ধনে ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতায় মুসলমানদের পবিত্র ভ‚মি জেরুজালেমে তেল আবিব থেকে রাজধানী সরিয়ে আনতে চাচ্ছে ইসরাইল। ইতোমধ্যে জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাস স্থানান্তর করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। ইসরাইলের নেতানিয়াহুর পক্ষে ও ইরানের বিরুদ্ধে সৌদি আরব মার্কিনীদের সাথে একাত্মতা হয়ে যারপর নাই ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে।
০৮/১০/১৮ ইং সোমবার দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত “এখনও দিন দুপুরে রোহিঙ্গাদের বাড়ীঘর আগুন দিচ্ছে বৌদ্ধরা” এই শিরোনামে একটি প্রতিবেদনে এখনও রোহিঙ্গাদের ওপর রাখাইন বৌদ্ধদের নির্যাতন ও নির্মমতার ভয়াবহ চিত্র ফুটে উঠেছে। ০৩/১০/১৮ ইং মংঘু শহরের হাতির বিল এলাকায় তিনটি বাড়ীতে আগুন লাগিয়ে পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা ভিশন টিভির ভিডিও ফুটেছে দেখা গেছে দাউ দাউ করে জ্বলছে আগুনের লেলিহান শিখা। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নিহত, গুলিবিদ্ধ, আগুনে পুড়ানো সেনাদের ধর্ষণের শিকার রোহিঙ্গা নারী। এই মর্মে কানাডার বেসরকারী সাহায্য সংস্থার গবেষণার একটি চিত্র দৈনিক জনতায় ০৪/১০/১৮ ইং বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হয়েছে।
মিয়ানমারের সেনাদের গুলিতে ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে এ পর্যন্ত ২৪ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা নিহত হয়েছে। রোহিঙ্গাদের ১ লাখ ১৫ হাজার ২৬টি ঘরবাড়ী আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছে মিয়ানমারের সেনারা। বর্বরতার আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বেঁচে থাকার শেষ অবলম্বন ও মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয় স্থল। পাশাপাশি ১ লাখ ১৩ হাজার ২শত ৮২টি ঘরবাড়ী ভাংচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। সেনারা ১৭ হাজার ৭শত ১৮ জন রোহিঙ্গা নারীকে ধর্ষন করেছে। রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির ৪১ হাজার ১শত ৯২ জন মানুষ সেনাদের গুলিতে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। ৩৪ হাজার ৪শত ৩৬ জনকে আগুনে পুড়ানো হয়েছে। এছাড়া ৭২ জনকে নির্মমভাবে পেটানো হলে অধিকাংশরাই মৃত্যুবরণ করে থাকে। ফোর্সড মাইগ্রেশন অন রোহিঙ্গা দ্যা আনটোল্ড এক্সপেরিয়েন্স (ঋড়ৎপবফ সরমৎধঃরড়হ ড়হ জড়যরহমধ ঃযব ঁহঃড়ষফ বীঢ়বৎরবহপব) অর্থাৎ জোর পূর্বক বাস্তুচ্যুৎ রোহিঙ্গা, অব্যক্ত শীর্ষক এমন গবেষণায় এমন ভয়াবহ তথ্য জানিয়েছে কানাডার ওন্টারিওতে নিবন্ধিত বেসরকারী সাহায্য সংস্থা ওন্টারিও ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সি (ওআইডিএ)।
যুক্তরাজ্যের কুইন্স কলেজে টেকশই উন্নয়ন ইস্যুতে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে গবেষনা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়। তাছাড়া ১৫ আগস্ট অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত রোহিঙ্গা সংকট বহুমাত্রিক প্রেক্ষাপট শীর্ষক এক বিশেষ অধিবেশনে কানাডার ওন্টারিও ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট এজেন্সির (ওআইডিএ) সহায়তায় গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করা হয়ে থাকে। অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশ, কানাডা, নরওয়ে এবং ফিলিপাইনের গভেষকরা এ প্রতিবেদনটি তৈরী করেছে। তাছাড়া আরও অনেকেই এ গবেষনা কাজটি সম্পন্ন করতে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করে বলে জানা যায়।
মুসলিম রাষ্ট্রের রাষ্ট্রনায়ক ও শাসকদের মধ্যে যদি ঐক্য, সংহতি ও ভ্রাতৃত্ব বজায় থাকত তবে দুনিয়ার পরাক্রমশালী ও বড় রাষ্ট্রের শাসকরা কোনো কিছু করতে হলে যথেষ্ট ভেবে চিন্তেই হয়তো করতো। ওরা তাদের স্বার্থেই এক মুসলিম দেশের রাষ্ট্রনায়ক ও শাসকদের অন্য মুসলিম দেশের শাসকদের বিরুদ্ধে লাগিয়ে রাখছে। যতটুকু চোখে পড়ে তাদের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই। তাদের মধ্যে ঐক্যের ঘাটতি নেই। যদিও কিছু দেখো যায়, এসব কিছুকে অনেকেই কেমোফ্যাক্স (ঈধসড়ভষবী) ও হিপোক্রেসির (ঐরঢ়ড়পৎধপু) বলে মনে করে থাকে। মুসলিম শাসকরা এক থাকলে ইয়েমেন, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা মুসলমানদের এমন দুর্বিসহ জ্বালা সহ্য করতে হত না, চোখের পানি ঝরত না। ট্রাম্প সৌদি আরবকে বলতে পারত না, যুক্তরাষ্ট্র ছাড়া দুই সপ্তাহও টিকতে পারবে না। বিজেপি নেতারা বাংলাদেশ দখল, মুসলমানরা রামের বংশধর এবং ভারতে বহুদিন যাবৎ বসবাসকারী ৪০ লাখ বাঙালীকে বাংলাদেশী বলে এদেশের ফেরৎ পাঠানোর চিন্তাও করত না। এমনিভাবে মিয়ানমারে বহু বছর যাবৎ স্থায়ীভাবে বসবাসকারী রোহিঙ্গা মুসলমানদেরকে এমনভাবে জোর করে বাংলাদেশে ফেরৎ পাঠানোর হয়তো চিন্তাও করত না। দুনিয়ার মুসলিম রাষ্ট্রনায়ক ও শাসকদের মধ্যে সুদৃঢ় ঐক্য, ভ্রাতৃত্ববোধ, সংহতিই মুসলিম জাতিসত্তার গৌরব ও অহংকার।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 jonotarbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com