সোমবার, ২২ অক্টোবর ২০১৮, ০২:১৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরনাম
খাশোগি হত্যার ‘নতুন তথ্য’ প্রকাশ সৌদি র্কমর্কতার উত্তরখানের আগুনে দগ্ধ সাগরও বাঁচল না যশোর সীমান্তে আটটি এয়ারগান উদ্ধার টঙ্গীতে বাসের ধাক্কায় আহত পুলিশের মৃত্যু বর্তমানকে উৎসর্গ করেছি আগামীর জন্য: প্রধানমন্ত্রী আইসিটি আইনের মামলায় আমীর খসরু কারাগারে তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর আশুগঞ্জে ৯ ইউনিটে উৎপাদন শুরু গোপালগঞ্জে ধর্ষণ মামলার আসামি গ্রেপ্তার নাটোরে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার দোহারে কিশোরীর গলা কাঁটা মরদেহ উদ্ধার, আটক ২ ছয় ঘণ্টা দুদকে এম এ হাসেম কুষ্টিয়ায় ট্রাকচাপায় মোটরসাইকেল আরোহী নিহত প্লট বরাদ্দে অনিয়ম: রাজউকে দুদকের অভিযান সিলেট নগর ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত, সেক্রেটারি বহিষ্কার মাগুরায় টানা দুইদিন ধরে চলেছে বাস ধর্মঘট দৌলতপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু আক্কেলপুরে মাদক ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ ফারমার্স ব্যাংক: রাশেদুল চিশতীর জামিন খারিজ রংপুরে বাবু সোনা হত্যা মামলার বিচার শুরু দুই মামলায় জাফরুল্লাহ চৌধুরীর হাইকোর্টে জামিন
বেইলি ব্রিজ আর নহে

বেইলি ব্রিজ আর নহে

পত্র-পত্রিকায় মাঝেমধ্যেই বিভিন্ন যানবাহনসহ বেইলি ব্রিজ ভাঙিয়া পড়িবার সচিত্র খবর প্রকাশিত হইতে দেখা যায়। একে তো অধিকাংশ বেইলি ব্রিজ মেয়াদোত্তীর্ণ (বয়স ২৫-৩০ বত্সরেরও বেশি) ও ঝুঁকিপূর্ণ, তদুপরি এইসব ব্রিজ দিয়া বিপজ্জনকভাবে চলাচল করিতেছে মাত্রাতিরিক্ত ওজনের যানবাহন। পাঁচ টনের বেশি ওজনের যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ হইলেও বাস্তবে চলাচল করিতেছে ২০-৩৫ টনেরও বেশি ওজনের যানবাহন। অন্যদিকে তিন হইতে পাঁচ বত্সর পর পর ব্রিজগুলি সংস্কার করিবার কথা থাকিলেও মানা হইতেছে না এই নিয়ম। আবার এইসব ব্রিজের পাটাতন-প্লেট চুরি হইয়া যাইবার ঘটনাও ঘটিতেছে অহরহ। বেইলি ব্রিজগুলির দুর্দশার ইহাই মূল কারণ। এইজন্য ঝুঁকিপূর্ণ বেইলি ব্রিজগুলি স্থায়ীভাবে নির্মাণের দাবির ব্যাপারে আমরা বরাবরই সোচ্চার। বিশেষ করিয়া বাংলাদেশ উন্নয়নের মহাসড়কে উঠায় আমাদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়িয়া গিয়াছে বহুগুণ। ফলে সড়ক-মহাসড়কে বাড়িয়াছে বিভিন্ন যানবাহনের চাপ। এই চাপ ও ধকল বেইলি ব্রিজের মতো অস্থায়ী ব্রিজের সামলানো সম্ভব নহে।

 

আশার খবর হইল, রংপুরে আর বেইলি ব্রিজ থাকিতেছে না। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সূত্র অনুযায়ী এই অঞ্চলে ২৮টি বেইলি ব্রিজ প্রতিস্থাপনের প্রস্তাব করা হইয়াছে। ইহার জন্য প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হইয়াছে ৪৫৫ কোটি টাকা। এই প্রকল্পটি ২০১৮ সালের জুন হইতে ২০২১ সালের জুনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা হইবে। এখানে একটি সুবিধাজনক বিষয় হইল, আমাদের দেশে বেশির ভাগ বেইলি ব্রিজই নির্মাণ করা হইয়াছে আরসিসি পিলারের ওপর। ফলে স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণ করিলে নূতন ব্রিজের তুলনায় খরচ হইবে কম। মূলত দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় অস্থায়ী সেতু হিসাবে বেইলি ব্রিজের প্রচলন শুরু করে ব্রিটিশরা। বাংলাদেশেও এই ধরনের সেতুর ব্যবহার শুরু হয় ব্রিটিশদের হাত ধরিয়াই। তবে ১৯৮৮ ও ১৯৯৮ সালের বন্যার সময় বাংলাদেশের বহু স্থানে ভাঙিয়া যাওয়া সেতু-কালভার্টের স্থলে ব্যাপক হারে বেইলি ব্রিজ স্থাপন করিয়া সাময়িক যোগাযোগের ব্যবস্থা করা হয়।

 

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের ব্রিজ ম্যানেজমেন্ট উইংয়ের হিসাবমতে, সারাদেশে বর্তমানে ৪৫০ মিটারের কম দৈর্ঘ্যের সেতুর সংখ্যা চার হাজার ৬৫৯টি। তন্মধ্যে স্টিলের পাটাতনের বেইলি ব্রিজ এক হাজার পাঁচটি, কাঠের পাটাতনের ব্রিজ ২৮টি এবং ইহার বাহিরে স্টিলের পাটাতনের ট্রাস ব্রিজ রহিয়াছে ১৫৩টি। ইহার বাহিরে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের অধীনেও রহিয়াছে অসংখ্য বেইলি ব্রিজ। স্টিলের তৈরি হালকা এই ব্রিজগুলি তুলনামূলকভাবে অধিক দুর্ঘটনাপ্রবণ। এইজন্য সার্বিক বিবেচনায় ২০১৬ সালের ২২ ডিসেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী (একনেক) সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন যে, দেশে আর কোনো বেইলি ব্রিজ থাকিবে না। এই সময়ে তিনি দেশে যত জায়গায় এই ধরনের ব্রিজ রহিয়াছে তাহা ভাঙিয়া কংক্রীটের ব্রিজ নির্মাণের নির্দেশ দেন। এইজন্য ১৪৭ কোটি ৮২ লক্ষ টাকার একটি প্রকল্পও একনেকে অনুমোদন দেওয়া হয়। সুতরাং রংপুরে যে আর বেইলি ব্রিজ থাকিতেছে না, ইহা প্রধানমন্ত্রীর সেই সিদ্ধান্তেরই প্রতিফলন মাত্র। আমরা আশা করি, পর্যায়ক্রমে এই প্রকল্প অন্যান্য বিভাগেও বাস্তবায়িত হইবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *




© All rights reserved © 2018 jonotarbangla.com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com